রাস্তার কাজ শেষ হতেনাহতেই ফাটল, উঠছে কার্পেটিং; বুরুঙ্গা সড়ক নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ

প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
মোঃ আব্দুর রকিব আনু

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নে বুরুঙ্গা বাজার সংযোগ সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ফাটল দেখা দেওয়া এবং যান চলাচলে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুরুঙ্গা সড়কের মোড় থেকে বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও সুরকি বেরিয়ে এসেছে। প্রথমপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু অংশে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছোট ছোট গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সিসি ঢালাই অংশের শুরুতে ফাটল দেখা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সড়কের কয়েকটি স্থানে দুই পাশের মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় যানবাহন চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ এখনো চলমান থাকলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়া, পাথর বেরিয়ে আসা এবং ফাটল দেখা দেওয়ায় সড়কের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালিল আহমদ বলেন, “কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। কোথাও ফাটল ধরেছে, আবার কোথাও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এছাড়া আমার কাছে মনে হচ্ছে সড়কটি আগের তুলনায় কিছুটা ছোট হয়ে গেছে। আগে যেখানে দুটি গাড়ি সহজে চলাচল করত, এখন সেখানে একসঙ্গে দুটি গাড়ি পাশ দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।”

ডাচ-বাংলা ব্যাংক বুরুঙ্গা এজেন্ট আউটলেটের পরিচালক সাব্বির আহমদ বলেন, “এলাকাবাসী একটি টেকসই ও মানসম্মত সড়কের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু কাজের অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা যাওয়ায় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখনো রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে, এর মধ্যেই কার্পেটিং উঠে পাথর বেরিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিচ্ছে। আমাদের কাছে রাস্তার কিছু অংশ আঁকাবাঁকা ও অসমান মনে হচ্ছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করুক।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল আহমদ বলেন, “সিসি ঢালাই সড়কের দুই পাশের মাটি ভরাট নেই। অনেক স্থানে মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। একসঙ্গে দুটি গাড়ি পাশ দিতে সমস্যা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমি মনে করি দ্রুত এ কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।”

স্থায়ী বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও ফাটল দেখা যাওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা আশা করেছিলাম সংস্কারের পর ভোগান্তি কমবে, কিন্তু এখনো নানা সমস্যার কারণে মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। রাস্তার কিছু অংশ আমাদের কাছে আঁকাবাঁকা ও অসমান মনে হচ্ছে। একসঙ্গে দুটি গাড়ি পাশ হতে সমস্যা হয়, প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখুক।”

বুরুঙ্গা ৭০৭-এর অন্তর্ভুক্ত উপ-সিএনজি শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজান আহমদ বলেন, “দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কের কাজ হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম এখন হয়তো স্বস্তি পাব। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাচ্ছে, পাথর বেরিয়ে আসছে এবং যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যদি এখনই এ অবস্থা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা একটি টেকসই সড়ক চাই।”

সিএনজি চালক সুরুজ আলী বলেন, “নতুন সড়ক হওয়ায় আমরা স্বস্তি পাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন অনেক স্থানে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে পাশ কাটাতে কষ্ট হয়। আমার কাছে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় রাস্তা কিছুটা ছোট লাগছে। এ কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা দেওয়া ফাটল ও কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।”

সাবেক ইউপি মহিলা সদস্য ছানারা বেগম বলেন, “সড়কে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে। আমরা প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জ্যামের মধ্যে আটকে ছিলাম। রাস্তার কিছু অংশে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা নোমান আহমদ বলেন, “স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ঢালাই অংশে ফাটল দেখা যাচ্ছে এবং কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা নিজেরা গিয়ে জায়গাগুলো দেখেছি। বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে সড়কটি টেকসইভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন।”

স্থানীয় অটোরিকশা চালক রাজু মিয়াসহ কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কের কিছু অংশে ইতোমধ্যে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বেলাল আহমদ বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একটি স্থানে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। তাছাড়া সড়কের আর কোথাও পাথর বেরিয়ে আসেনি। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং এখনো সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়নি।”

এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। কোথাও কোনো ত্রুটি বা সমস্যা থাকলে ঠিকাদারকে তা সংশোধন করতে হবে। এখনো কাজের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়নি।”

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিয়ে কাজটি যেন সুন্দর ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়টিও দেখা হবে।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর