ঢাকা |
প্রকাশিত: 12:32 AM, July 17, 2026
মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর যাদুকাটা সংলগ্ন ঘাগটিয়ায় ২০০৪ইং সালে রেকর্ডকৃত আমার পৈত্রিক সম্পত্তি গ্রাস করার অপচেষ্টায় ঘাগটিয়া গ্রামের কতিপয় ভূমি ও বালু খেকো কর্তৃক ২০০৪ সালে ১৩ বছর বয়সী নাবালক নারজেল হোসাইন-কে ভূমি খেকো ফ্যাসিবাদী দূসর এবং জালিয়াত আখ্যা দিয়ে ১১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনের মাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ স্বরূপ নারজেল হোসাইন এর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারজেল হোসাইন-এর পরিবারের উদ্যোগে
বুধবার ( ১৫ জুলাই) বিকালে শহরের শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাড়েরগড় গ্রামের মৃত আফজল উদ্দিনের ছেলে মো: হুমায়ুন কবির জানান,
আমার পারিবারিক ও মৌরসী সম্পত্তি আত্মসাৎ করার পাঁয়তারায় কতিপয় লোকেরা লিপ্ত রয়েছে। আমার পিতা মৃত আফজল উদ্দিনের নামে তাহিরপুর থানার চালিয়াঘাট মৌজার জে এল নং ৯০ স্থিত মোট ৫ একর ২৫ শতক জায়গা দলিলমূলে রেকর্ড হয়েছে। অপরদিকে দাগ নং ৭৭০ এবং ৬৯২ নং দাগে আরো ২ একর ৬৮ শতক জায়গা আমার বাবা চাচাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। উক্ত ভূমি আমার পরিবারে মৌরসী সম্পত্তি। লাউড়ের গড় ও ঘাগটিয়া এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যাদুকাটা নদী। উক্ত যাদুকাটা নদী ও তার আশপাশ এলাকা থেকে প্রতিদিন ও রাতে বালু খেকো লোকেরা বালু উত্তোলন করে নৌকা ও ভলগেট দিয়ে বালু নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। উক্ত বালু খেকো চক্রের লোকজন টাকার বিনিময়ে লোক ভাড়া করে জোরপূর্বক নদীর পাড়ের দিক থেকে বালু উত্তোলন করছে ফলে নদীর উভয় পাড়েই অনেক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি ঘাগটিয়া গ্রাম এলাকার মো: শেরুজ্জামান, মো: মনির উদ্দিন, মো: রহিম উদ্দিন, মো: বকুল শাহ, মাওলানা সালমান ইসলাম সুজন, মো: আব্দুল মান্নান, মো: আব্দুল ছবু, মো: সাবিদুল ইসলাম, মাও. নাসির উদ্দিন, মো: সাইফুল্লাহ মনর উদ্দিন, রমিজ মিয়া, বাহা উদ্দিন, রাহাজ মিয়া, আলী হায়দার, সকিবুর, ইকবাল হোসেন, রকিবুল, সুবেল, জুবেল, সাহাব উদ্দিন, রাহাজ মিয়া, শমছিনুর, সাজাহান, বুলবুল, মাসুম, সাহাজ, কাবারুল, সেলিম, সুর জাহান, টিপু সুলতান, আলী মনতাজ, আতিক, মজিবুর উদ্দিন, সিয়াম, এনামগুল, কামরান, হিবলু, তানভীর, আলামীন সহ আরো কতেক ব্যাক্তি আমার বাবার নামীয় রেকর্ডীয় জায়গা থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করে নিতে থাকে। আমি আমার মা, ভাই বোন ও স্ত্রী সন্তান সহ স্ব-পরিবারে সিলেট শহরে বসবাস করি। আমরা সিলেটে থাকাকালীন তখন এলাকার লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সিলেট থেকে আমি ও আমার ছোট ভাই নারজেল গ্রামের বাড়িতে যাই এবং উল্লেখিত লোকজনের উক্তরুপ কার্যের আলামত দেখিতে পাই। আমরা এলাকার লোকজন সহ তাদের আমাদের মালিকানাধীন জায়গা থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধ করলে তারা আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে এবং রহিম উদ্দিন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে যে, আমরা এলাকায় গেলে সে লোকজন দিয়ে পিটিয়ে আমাদেরকে এলাকা ছাড়া করবে। উল্লেখ্য যে, মো: রহিম উদ্দিন এলাকায় একজন ভূমি খেকো এবং বালু খেকো হিসেবে পরিচিত। তিনি সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে অন্য ব্লাক্তির নিকট আন-রেজিস্টার্ড দলিল মূলে বিক্রি করেছেন যার দলিলের কপি আমার সংগ্রহে আছে। রহিম উদ্দিন স প্রামোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং উক্ত মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশীট আদালতে দাখিল হয়েছে।
চার্জশীটভুক্ত পলাতক আসামী হয়েও আসামীগন এলাকায় দাপটের সহিত প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। তখন নিরুপায় হয়ে আমি নিজে বাদী হয়ে উক্ত ব্যাক্তিগনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার চেয়ে বিগত ১৮/০৬/২০২৬ইং তারিখে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। উক্ত অভিযোগ তাহিরপুর থানার ওসি সাহেব তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন মর্মে আমাকে আশ্বস্ত করলেও অদ্যাবধি প্রভাবশালী উক্ত বিবাদীদের হস্তক্ষেপে আমার অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। উক্ত অভিযোগটি তাহিরপুর থানায় এখনো পেন্ডিং আছে। উল্লেখিত বিবাদীগন আমকে সহ আমার ছোট ভাই নারজেল, আকাইদকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন এবং আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব এবং পত্রিকায় নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে আমার পরিবারের মান সম্মান ক্ষুন্ন করছে। গত ১১/০৭/২০২৬ইং তারিখ বিকাল অনুমান ৪ ঘটিকার সময় উল্লেখিত ব্যাক্তিগন ঘাগটিয়া গ্রামে আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দাঁাঁড়িয়ে উক্ত সম্পত্তিকে তাদের চলাচলের রাস্তা এবং খেলার মাঠ দাবী করে আমার সহোদর ছোট ভাই নারজেল হোসাইনের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার বানিয়ে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে উপস্থিত ব্যক্তিগন আমার ছোট ভাই নারজেলকে আওয়ামীলীগের দোসর, ভূমি খেকো এবং আরো বিভিন্নি অশ্লীল ভাষায় কুরুচিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে এবং আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এখানে আরো উল্লেখ থাকা আবশ্যক যে, ২০০৪ সালে সরকারিভাবে অত্র এলাকায় জমি জমার জরীপ কার্য হয়েছে। এবং ২০০৪ সালে উল্লেখিত ভূমি আমার পিতার নামে সরকার জরীপ করে কাগজপত্র দেখে বিধি মোতাবেক রেকর্ড করেছে। ২০০৪ সালে আমার ভাই নারজেলের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। ১৩ বছর বয়সে আমার ভাই নারজেল নাবালক ছিল। একজন নাবালক ছেলের পক্ষে তখন আওয়ামীলীগের পাওয়ার খাটিয়ে অন্যের জমি জোরপূর্বক আমার পিতার নামে রেকর্ড করানো কোনভাবেই সম্ভব নয়। মাননববন্ধনে অংশগ্রহনখারী ব্যাক্তিগন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য প্রচার করে কৃত্য দিয়ে বলেছেন আমার ভাই আওয়ামীলীগের ফ্যাসিবাদী দোসর ছিল এবং সে আওয়ামীলীগের পাওয়ার খাটিয়ে উক্ত জমি আমার পিতার নামে রেকর্ড করিয়েছে। ২০০৪ সালে বিএনপি দলীয় সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন আওয়ামীলীগের পাওয়ার খাটানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং মিথ্যা তথ্য বলেই প্রতীয়মান হয়। যে সকল ব্যাক্তি এবং মিডিয়া কর্মীগন মিথ্যা তথ্যের সংবাদ প্রচার করেছেনে তাদের পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে উক্ত মিথ্যা তত্য সঠিকভাবে যাচাই করে সঠিক তথ্য উদঘাটন করে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা দরকার ছিল। কাজেই ১১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে মানববন্ধনের বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত সকল তথ্যই মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যমূলক এবং পরিকল্পিতভাবে আমার ভাই নারজেলের ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমার ভাই নারজেল সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বেঞ্চ সহকারী পদে বিগত ২০১৬ ইং সাল হতে অত্যন্ত সুনামের সহিত সরকারি চাকুরিতে নিয়োজিত আছে। নারজেল আওয়ামীলীগ বা অন্য কোন দলের রাজনীতির সাথে কখনোই জড়িত ছিলনা এবং এখনো নাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নারজেলের যেসকল ছবি প্রচার করে তাকে আওয়ামীলীগের দোসর পরিচয় দিয়ে আখ্যা দেওয়া হয়েছে তার সকল ছবিই নারজেলের অফিসিয়াল সংগঠনের এবং সরকারি প্রোগ্রামের ছবি। এগুলো নারজেলের ব্যাক্তিগত কোন রাজনৈতিক ছবি নয়। আমার অপর ছোট ভাই আকাইদ একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার পরিবারে অত্র এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে। আমার দাদা এবং আমার পিতা মৌরসী সূত্রেই অত্র এলাকায় প্রচুর সম্পত্তির মালিক। আমার স্বনামধন্য পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য, আমরা সিলেট শহরে বসবাস করায় আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য এবং আমার ছোট ভাই সরকারি চাকুরিজীবী নারজেলের সুনাম ক্ষুন্ন করে তার চাকুরির ক্ষতি করার হীন উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যাক্তিগন সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে ও বেআইনীভাবে এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আমার ভাই নারজেলের ছবি ব্যবহার করে উক্ত মানববন্ধন করেছে। আমি ও আমার পরিবার উক্ত মানববন্ধনের এবং সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উক্ত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যাক্তিগন সহ যারা ফেসবুকে, পত্রিকায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাই নারজেলের বিরুদ্ধে এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে সংবাদ প্রচার করে আমার পারিবারের মান ক্ষুন্ন করেছেন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, মাননীয়, জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ, মাননীয় পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জ, মাননীয় মন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রনালয়, মাননীয় মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. আব্দুল কদ্দুস রনি, জাহাঙ্গীর আলম, মাসুদ জাহান পিংকু, হেলাল উদ্দিন ও নাজির হোসেন এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host