যাদুকাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি নৌ-পুলিশের এডিশনাল ডিআইজির

প্রকাশিত: 9:39 PM, July 11, 2026

যাদুকাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি নৌ-পুলিশের এডিশনাল ডিআইজির

তৌফিকুর রহমান তাহের বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ::

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদী থেকে সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের সত্যতা পেয়েছে নৌ-পুলিশ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালসহ নদীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন নৌ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের (উত্তর বিভাগ) এডিশনাল ডিআইজি মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ।
পরিদর্শন শেষে তিনি সদর উপজেলার টুকেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন
জহিরুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, নৌ-পুলিশ (সিলেট অঞ্চল)
দিলীপ কুমার দাস ওসি, টুকেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি
মোঃ রাখাব উদ্দিন ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা
কুলেন্দু শেখর দাস সভাপতি, সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরাম ও জেলা প্রতিনিধি (মোহনা টেলিভিশন)
মোঃ ফরিদ মিয়া সাধারণ সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরাম ও প্রতিনিধি (দৈনিক সোনালী খবর)
সীমানার বাইরে বালু কাটার কোনো সুযোগ নেই’
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এডিশনাল ডিআইজি মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ বলেন, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন কর্তৃক যাদুকাটা-১ এবং যাদুকাটা-২ বালুমহাল নির্ধারিত সীমানা নির্ধারণ করে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদারদের অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে থেকেই বালু উত্তোলন করতে হবে, এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “একটি প্রভাবশালী মহল ইজারার সীমানা অমান্য করে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে আমরা এর সত্যতা পেয়েছি।” এভাবে নদীর পাড় কাটার ফলে নদীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তীরবর্তী গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা
অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আগামীতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌ-পুলিশ যৌথভাবে *টাস্কফোর্স* গঠন করবে। যারা আইন অমান্য করে নদীর পাড় ও পরিবেশ ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যাদুকাটা নদী আমাদের পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে হাওর ও নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এই নদীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ এডিশনাল ডিআইজি, নৌ-পুলিশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর