ঢাকা |
প্রকাশিত: 9:17 PM, July 11, 2026
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চারাগাঁও এলাকায় টানা ৮ থেকে ৯ দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত নদী ও ছড়াগুলোতে ভেসে আসছে বিপুল পরিমাণ কয়লা। আর সেই কয়লা সংগ্রহ করতে চারাগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু নদীতে নেমে পড়েছেন। স্থানীয়দের কাছে এই ভেসে আসা কয়লাই এখন যেন ‘কালো সোনা’, যা দুর্যোগের সময়ে তাদের জীবিকার নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বর্ষণের ফলে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন সংলগ্ন নদী ও ছড়াগুলোতে পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ভারতের খাসিয়া পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কয়লা ভেসে এসে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় জমা হচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই চারাগাঁও, বালিজুরী, তেকানিয়া ও আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েকশ মানুষ জাল, ঝুড়ি ও মাছ ধরার জাল নিয়ে কয়লা সংগ্রহে নেমে পড়েন।
সরেজমিনে চারাগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বুকসমান পানিতে নেমে তীব্র স্রোতের মধ্যেই স্থানীয়রা কয়লা ছেঁকে সংগ্রহ করছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নারী-পুরুষ এমনকি শিশুরাও এই কাজে অংশ নিচ্ছেন।
কয়লা সংগ্রহে আসা কয়েকজন জানান, টানা বৃষ্টিতে কয়েকদিন ধরে তাদের সব ধরনের কাজ বন্ধ ছিল। সংসারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছিল। তবে পাহাড়ি ঢলে কয়লা ভেসে আসা শুরু হওয়ায় এখন প্রতিদিন একজন ১ থেকে ২ হাজার টাকার কয়লা সংগ্রহ করতে পারছেন, যা দিয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে।
সংগৃহীত কয়লা স্থানীয় ইটভাটা ও বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। চারাগাঁও বাজারের এক কয়লা ব্যবসায়ী জানান, পাহাড়ি ঢলে আসা কয়লার মান বেশ ভালো। গুণগত মান অনুযায়ী প্রতি বস্তা কয়লা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় তাৎক্ষণিক বিক্রি হচ্ছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে সাময়িক হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
তবে এই উপার্জনের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত, গভীর পানি এবং আকস্মিক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন কয়লা সংগ্রহকারীরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জীবিকার তাগিদে মানুষ নদীতে নামলেও শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নজরদারি বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দুর্যোগের এই সময়ে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা কয়লাই এখন চারাগাঁওয়ের শত শত পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। নদীতীরজুড়ে এখন মানুষের ভিড়, আর প্রতিটি কয়লার টুকরো যেন একটি পরিবারের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্নের প্রতীক।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host