বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে উন্নয়নের নতুন পথে সিলেট

প্রকাশিত: ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে উন্নয়নের নতুন পথে সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দায়িত্ব গ্রহণের পর সিলেটের অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, কৃষি ও যোগাযোগ খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে এসেছে। সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন।
মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, সিলেটকে একটি “মডার্ন ভাইব্র্যান্ট সিটি” বা আধুনিক ও প্রাণবন্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তার মতে, পর্যটন, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধার সমন্বয়ে সিলেটকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় নগরীতে পরিণত করা হবে।
নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত এক সভায় নগরীর চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, লালদিঘীরপাড় সুপার মার্কেটের নতুন নকশা এবং নগর ভবনের আধুনিকায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে নিম্নাঞ্চলগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ শুরু হবে। একইসঙ্গে সিলেট–চট্টগ্রাম মহাসড়ককেও ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সিলেট–ঢাকা ডাবল গেজ রেললাইন স্থাপনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে ট্রেন যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে।
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রীর অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হলো “কৃষকের হাট”। চলতি বছরে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকের হাট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমছে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা কৃষিপণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন।
এছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, খাল পুনঃখনন এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বাজার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, সড়ক, রেল, নগর ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পর্যটন খাতে ঘোষিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, ঘোষিত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে সিলেট কেবল দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ মহানগরী হিসেবেও নতুন পরিচয় লাভ করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর