ঢাকা ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
নগর ভবনে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন। রাতের মধ্যেই গোটা নগরের সব বর্জ্য অপসারণ করে সকালে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন একটি নগর উপহার দিয়ে শুরু হয় তাঁর পথ চলা। পরিচ্ছন্ন শাখার আমূল পরিবর্তনে তিনি প্রথমেই অ্যাকশনে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে। দফায় দফায় বৈঠক করে দাঁড় করান সুন্দর এক সিস্টেমের। সেই সিস্টেম অনুযায়ী চলতে থাকে নগরের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম। যা নগরবাসীর কাছে নিঃসন্দেহে সন্তুষ্টির ও স্বস্তির।
বলা চলে, নগরের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের কারণে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসেন একলিম আবদীন। নগরবাসীর সেই প্রশংসায় তাঁর কাজকে আরও বেগবান করে তুলে। উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে আরো সম্প্রসারণ করেন কাজের পরিধি। তাঁর এমন আন্তরিকতায় এখনও সুফল ভোগ করছেন নগরবাসী।
এদিকে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগর পরিষ্কারের ঘোষণাকে বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করেন একলিম আবদীন। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারের দিকনির্দেশা মতো নিজে মাঠে থেকে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দিনভর সেই কর্মযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন। তার সুষ্ঠু তত্বাবধানে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই পূণ্যভূমি সিলেট শহর হয়ে উঠে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত।
কাজ শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন বলেন, নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও আমাদের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা এই রেকর্ড সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পর জীবাণু ও দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে পুরো নগরীতে ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে।
জানা যায়, যোগদানের সিলেটে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখাকে ঢেলে সাজান শাখার প্রধান কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। নগরবাসীর কষ্ট লাঘবে নিরলস কাজ করে যাওয়া এই মানুষটি সিলেটে আসার পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই শাখাটিকে উন্নীত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করছেন। যার সুফল ধীরে ধীরে আঁচ করতে পারছেন নগরের সচেতন মহল।
তারা বলছেন, সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় অনেক উন্নত। আগেতো প্রায়ই নগরের বিভিন্ন রাস্তায় ময়লার স্তূপ চোখে পড়তো। গুরুত্বপূর্ণ খাল, ছড়া ও ড্রেন দখল করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতো। অব্যবস্থাপনার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। টানা বা ভারী বৃষ্টি হলে রীতিমতো বন্যা দেখা দিতো শহরের অভ্যন্তরে। এসব বিষয় থেকে মানুষ এখন যথেষ্ট পরিত্রান পেয়েছে। আর এই পরিত্রানের পেছনে রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন’র গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
নগরবাসী জানান, একলিম আবদীন সিসিকে কন্ট্রাক্চুয়াল হিসেবে যোগদানের আগে থেকেই এই শাখার অবস্থা ছিল ঢিলেঢালা। অগোছালো অফিস, অনিয়ন্ত্রিত শ্রমিক, সুপারভাইজার আর চালকদের নিয়ে কাজ করাটা তাঁর কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং ছিল। শাখা সংশ্লিষ্ট কারোর মধ্যেই কোনোরূপ শৃঙ্খলবোধ ছিল না। সব মিলিয়ে এক ঢিলেঢালা পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসেন এবং পুরনো পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের পথ বের করার চেষ্টা করেন। তাঁর বর্জ্য শাখার নেতৃত্বে নগরের পাড়া-মহল্লার এবং ছড়া ও খালের পারে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার আকুতি জানিয়ে ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়ে নগরবাসীর কাছে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। সেইসাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার আহ্বান জানান।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সিসিকের বর্জ্য শাখার সুপারভাইজার, শ্রমিক ও বর্জ্য বাহনের চালকরা নিজেদের পরিচয়হীন অবস্থায় কাজ করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সমঝোতার বেশ অভাব ছিল। একটা সময় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হতে থাকলে তা রূপ নেয় কর্মের প্রতি অনিহায়। যার ফলে নগরবাসীকে ভুগতে হয় পরিচ্ছন্নতার নিদারুন যন্ত্রণায়।
সূত্রটি নিশ্চিত করে, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সিসিকের লোগো কিংবা নাম সম্বলিত কোনো পোশাক ছিল না। একই অবস্থা ছিল সুপারভাইজার ও চালকদেরও। এমনকি সিসিক থেকে তাদেরকে কোনোরূপ আইডি কার্ডও (পরিচয়পত্র) প্রদান করা হতো না। ফলে তাদেরকে নিজ নিজ পোশাকেই কাজ করতে হতো। বাসা বাড়ি কিংবা সড়ক পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে তাদেরকে পরিচয় নিয়েও বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। তাছাড়া, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের যেসব সুযোগ সুবিধা থাকার কথা, সেসবও যথার্থ ছিল না। সুপারভাইজারদের বসার মতো নির্দিষ্ট কোনো কক্ষও ছিল না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অনিহা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। যার ফলে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও প্রায় সময় অপরিচ্ছন্ন থাকতো। বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ পড়ে জমে থাকতো। সুপার ভাইজাররা তাদের তদারকি থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে শুধুমাত্র হাজিরায় সীমাবদ্ধ থাকতেন। তদারকি ও দায়িত্বহীনতার কারণে বেগ পড়তো নাগরিক জীবনে। এতসব চ্যালেঞ্জিং বিষয়কে মোকাবেলা করে বর্জ্য শাখাকে ঢেলে সাজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।
তিনি বার বার পরিচ্ছন্ন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাদেরকে বুঝিয়ে সুন্দর একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছেন। তাদের দুঃখ কষ্ট মনযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তা সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন। অসহায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের সাথে সমন্বয় করে তাদের মধ্যে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। তাদের বসার মতো জায়গা তৈরি করে দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনে তাদের মনে কোনোরূপ প্রশ্নের উদ্রেক হলে সরাসরি কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। পরিচ্ছন্নকর্মী ও শাখা প্রধানের সাথে ভালো বোঝাপড়ার কারণে তাদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে নগরবাসী এসব সুফল পেয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে সিলেটে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, ‘আমি শুধু অতীতের পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের চেষ্টা করেছি। পরিচ্ছন্ন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বার বার বসেছি। তাদের কথা শুনেছি এবং তাদের পাশে থাকার সর্বাত্মক আশ্বাস দিয়েছি। তারা আমার কথায় ভরসা পেয়েছেন এবং আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার যে অভাব ছিল তা আমি পূরণ করেছি। সরাসরি আমার সাথে কথা বলার পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। প্রত্যেক ওয়ার্ডের সুপারভাইজারদের নিয়ে বসে তাদের সুবিধা-অসুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে সে অনুযায়ী কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। তাদেরকে বসার মতো জায়গা করে দিয়েছি। সুপারভাইজার, শ্রমিক ও চালকদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করেছি। এমনকি তাদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থাও চালু করেছি। আমার এসব উদ্যোগে তারা উদ্বোদ্ধ হয়ে কাজে মনোনিবেশ করেছে। কাজের গতি বাড়িয়ে নগরকে সৌন্দর্যমন্ডিত করতে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছে।’
পরিচ্ছন্ন নগরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারাতো প্রায়ই এখন সড়কে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেখতে পান, যা আগে ছিল না। নগরের কোথাও এখন ময়লার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখবেন না। কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ঘটনাও কম। খুব বেশি বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এমন এলাকা এখন নেই বললেই চলে। কিছু সময় পানি আটকে থাকলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তা গন্তব্যেই পৌছে থাকে বিধায় জলবদ্ধতার মতো যন্ত্রণা থেকে নগরবাসী যথেষ্ট সুফল পাচ্ছেন। নগরের বিভিন্ন খাল, ছড়া ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আগের থেকে অনেকটা ভালো। নগরবাসীর পূর্ণ সাপোর্ট থাকলে তা আরো ভালোর দিকে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
কর্নেল বলেন, পরিচ্ছন্নতার নিমিত্তে বর্জ্য শাখায় নতুন কিছু গাড়ি যোগ করা হয়েছে। নতুন করে কিছু প্রযুক্তিও যোগ করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু সম্পন্ন হলে আরো বেশি সুফল পাবেন নগরবাসী। এই সফলের পেছনে অগ্রনী ভূমিকা রয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রশাসক, সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ। এছাড়া, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও অবৈধ উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণে সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করবেন, সেসব উদ্যোগ যথাযথা বাস্তবায়নে পরিচ্ছন্ন শাখার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host