উত্তর সুরমায় অবৈধ বালু-পাথরের ট্রলি ও পিকআপ চলাচল ১ বছরে ১০ কোটি টাকার সড়ক নষ্ট

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬

উত্তর সুরমায় অবৈধ বালু-পাথরের ট্রলি ও পিকআপ চলাচল  ১ বছরে ১০ কোটি টাকার সড়ক নষ্ট

মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীর অবৈধ বালু-পাথরবাহী ট্রলি ও পিকআপ বেপরোয়া চলাচলের কারণে গত ১ বছরে অন্তত ১০ কোটি টাকার সড়ক নষ্ট হয়েছে।
বিগত সময়ে উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউপি’র প্রায় ২০টি সড়ক বিভিন্ন সময়ে সরকারী বরাদ্দে সিসি, আরসিসি ঢালাই এবং কার্পেটিং করে সংস্কার করা হয়। কিন্তু অবৈধ বালু-পাথরবাহী ট্রলি ও পিকআপ চলাচলে এসব সড়কের বিন‍্যাস ঘটেছে। এই কারণে প্রায় ১০ কোটি টাকার সড়ক নষ্ট হয়েছে বলে দাবি এলজিইডি’র। শনিবার এমন তথ‍্য দিয়েছে সদর উপজেলা এলজিইডি অফিস।

জানা যায়, সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে গত ১ বছর ধরে পাথরবাহী ট্রলি ও পিকআপ বেপরোয়া চলাচল করে আসছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে বেপরোয়া চলাচল করছে এই অবৈধ যানবাহন। এতে হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা, মঙ্গলকাটা-চৌমুহনী, চৌমুহনী-ডলুরা, মীরেরচর-কৃষ্ণনগর, কৃষ্ণনগর-বেরীগাঁও সড়কের, আমপারা-সৈয়দপুর, সৈয়দপুর-ইব্রাহীমপুর সড়কের এবং ইব্রাহীমপুর-মইনপুর সড়কের মারাত্মক বিন‍্যাস ঘটেছে।

এসব বেপরোয়া ও অবৈধ বালু-পাথরবাহী যানবাহন চলাচলের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-যাপন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। সড়কের পাশের বাসিন্দারা দিনের বেলায় সড়কে চলাচলে নিরাপত্তা নেই, সড়কের পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় ব‍্যাঘাত সৃষ্টি, রাতের বেলায় স্বাছন্দ্বে ঘুমানো যাচ্ছে না। যানবাহন চলাচলের বিকট শব্দে রোগীদের মারাত্মক সমস‍্যা সৃষ্টি হয়ে আসছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ১ বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার রাস্তা-ঘাটের বিন‍্যাস হয়েছে। এই কারণে দুই ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তা সদ‍্য মেরামতের পর পরই নষ্ট হয়েছে। এই অবৈধ মালবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে মুর্চা থেকে আমপারা বাজার পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা এখনও দৃশ‍্যমান রয়েছে। আমপারা বাজার থেকে সৈয়দপুর হয়ে ইব্রাহীমপুর গ্রামের আনন্দ বাজার পর্যন্ত রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি চরমে। পূর্ব ইব্রাহীমপুর থেকে উত্তরপাড়া পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। মইনপুর কবরস্থানের পাশের রাস্তা প্রায় দুইশত ফুট ইট সলিং রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়েছে। মালবাহী পিকআপ ও ট্রলি চলাচলের কারণে হালুয়ারঘাট-রহমতপুর কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়েছে। এসব সড়কে মালবাহী ট্রলি-পিকআপ চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবি স্থানীয়দের।

মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়িরা বলেন, বালু-পাথরবাহী ট্রলি-পিকআপ বেপরোয়া চলাচলের কারণে আমাদের চলাচলে নিরাপত্তা নেই, শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় ব‍্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এসব অবৈধ যানবাহন বন্ধের দাবি আমাদের।

চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, যানবাহন চলাচলে সড়কের বিন‍্যাস, লেখাপড়ার এবং রোগীদের বিন‍্যাস ঘটেছে। আমরা চাই এসব অবৈধ যানবাহন দ্রুত বন্ধ করে চলাচল সড়ক নিরাপদ করা হউক।

জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, অনেকে অনেকবার চেষ্টা করেছেন সড়কে অবৈধ যানবাহন বন্ধ করতে। কিন্তু পারেননি। এখন আমরা প্রশাসনিকভাবে যানবাহন বন্ধ করার দাবি জানাই।

এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, উত্তর সুরমায় গত কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে অনুমান ১০/১২ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে এমন হতে পারে। এসব বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে। এখনও কয়েকটি সড়কের কাজ চলছে।

সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ভূমি আদিত্য পাল বলেন,ধোপাজান নদীতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গত কয়েক মাস পূর্বেও নদীতে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর