ক্র্যাশার ব্যবসায়িদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নদীতে লাখো বালু ও নৌ শ্রমিকের মানব বেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত: 10:58 PM, July 28, 2026

ক্র্যাশার ব্যবসায়িদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নদীতে লাখো বালু ও নৌ শ্রমিকের মানব বেতর জীবন যাপন

মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর,বিশ্বম্ভরপুর,জামালগঞ্জের কিছু সংখ্যক অসাধু পরিবেশ বিধ্বংসী বালু-পাথর ব্যবসায়ি তাদের নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য বালু-পাথর ও নৌযান শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে নদীতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এতে প্রায় বেশ কয়েকটি উপজেলার লাখো শ্রমিকের মানব বেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, প্রায় মাস দেড় এক ধরে এই অসাধু ক্র্যাশার ব্যবসায়িরা শ্রমিকদের নিয়ে সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন করার কারণে নদীতে কাজ করতে না পারায়
শ্রমিকদের ঘরে খাবার নেই,স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের বেতন দিতে হিমসিম খাচ্ছেন,চুলায় ডেগ বসছে না।

এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ
বড়ছড়া,চারাগাও,বাগলী শুল্ক স্টেশনে এলসি পাথর ও কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শ্রমিকরা বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছেন না। এভাবে যদি আর কিছু দিন ধর্মঘট চলতে থাকে তাহলে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্স ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে হবে।

এই যাদুকাটা নদী এবং তিনটি শুল্ক স্টেশনকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর গড়ে উঠেছে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান। যাদুকাটা নদী মূলত বালু-পাথরবাহী নদী হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় নদীর পানিপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং স্রোতের সঙ্গে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু-পাথর ভেসে আসে। বর্ষা শেষে পানি কমে গেলে নদীর বুকে দেখা দেয় বালু-পাথরের বিশাল ভাণ্ডার। তখনই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য। এ নদীপথে খনন, পাথর উত্তোলন,লোডিং-আনলোডিং, বাছাই, নৌকা ও ট্রলার মালিকানা, নদীপথের ছোট-বড় ব্যবসাসহ কয়েক হাজার মানুষের ছয় মাস কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বলা হয়ে থাকে-যাদুকাটা নদী তাহিরপুরের বহু পরিবারকে জীবিকার আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বছরের বাকি ছয় মাস নদীতে কোনো কাজ থাকে না বললেই চলে। বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র স্রোত ও পানির উচ্চতার কারণে শ্রমিকেরা নদীতে নামতে পারেন না। এতে শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়ে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় অস্থায়ী কাজ খুঁজতে যান, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটান।
যাদুকাটা নদীকে ঘিরে যে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়, তা আরও টেকসই, নিরাপদ ও বছরব্যাপী করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা আরও স্থিতিশীল হবে। যাদুকাটা নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি হাওরাঞ্চলের লাখো শ্রমজীবী মানুষের বাঁচার অবলম্বন, স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক।

নৌযান শ্রমিক সরদার আবু মিয়া বলেন, দীর্ঘ প্রায় মাস দেড় এক যাবৎ টুল আদায়ের বিষয়ে সভা সমাবেশ ও মানববন্ধন কমসূচী পালন করছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এভাবে যদি আর কিছু দিন ধর্মঘট চলছে থাকে তাহলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি বলেন, পরিবেশ বিধ্বংসী ক্র্যাশার ব্যবসায়ি কামাল মিয়া,ডালিম মিয়া,আব্দুল গনি,নৌযান শ্রমিক সংঘটনের সভাপতি জাহাঙ্গীর মিয়া আমাদের কাছে বিপুল অংকের উৎকোচ দাবি করেছে। তাদেরকে চাঁদা না দেওয়ায় বালু ও নৌ শ্রমিকদের নিয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এতে বেশ কয়েকটি উপজেলার লাখো শ্রমিকের মানববেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বললেন, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর