সিসিকের বর্জ্য অপসারণে বাজিমাত করে সারা দেশে আলোচনায় সিসিক
পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর গঠনে প্রশংসায় ভাসছেন আব্দুল কাইয়ুম

প্রকাশিত: ৩:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সিসিকের বর্জ্য অপসারণে বাজিমাত করে সারা দেশে আলোচনায় সিসিক</span> <br/> পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর গঠনে প্রশংসায় ভাসছেন আব্দুল কাইয়ুম

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কর্মতৎপরতা, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের অঙ্গীকার, উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতার বার্তা এবং নাগরিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়ার কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ইতোমধ্যে সিলেটবাসীর আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। অনেকের মতে, তাঁর এই কর্মমুখী নেতৃত্ব সিলেট সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়েই প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক পরিকল্পনা, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং আন্তরিকতা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সিলেটকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগরীতে পরিণত করার যে প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেছেন, তার প্রাথমিক প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বলে মনে করেন নগরবাসী।
সিলেটের সচেতন নাগরিকদের দাবি, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী যে কর্মতৎপরতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠমুখী প্রশাসনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। সময়ের আগে নগর ভবনে আসা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে আসছে কি না তা তদারকি করা, সিটি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ নিজ চোখে দেখতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে পরিদর্শন করা ও অবহেলিত এলাকা দ্রুত সংস্কারের জন্য তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করা ও বাস্তবায়নে তৎপরতা চালিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নয়, নাগরিকদের অংশীদার করে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগর গড়ার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছেÑনগর উন্নয়ন কেবল প্রশাসনের একার কাজ নয়, এটি নাগরিকদেরও সম্মিলিত দায়িত্ব। এমনকি উন্নয়নকাজে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। জনসাধারণের করের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় এবং নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান নগরবাসীর আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
তারা বলেন, প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী একজন বড় মনের মানুষ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় ইতিপূর্বে তিনি যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেই উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে যাঁরা নীরবে কাজ করেন, তাঁদের উৎসাহ ও প্রণোদনার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিজের মহত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল আযহায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেট নগরকে কোরবানির জবাইকৃত পশুর বর্জ্যমুক্ত করে বাজিমাত করেছেন তিনি। তাঁর এই সফল মিশনে বিরামহীন সঙ্গী ছিলেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার ও সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন। সিলেটের ইতিহাসে এই প্রথম স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্ন নগরায়নে রীতিমত প্রশংসায় ভাসছেন তারা।
নগরবাসী জানান, মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরের কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করাটা ছিল নজিরবিহীন ঘটনা। এরআগে কেউ এতো অল্প সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্ন নগরায়ন গড়তে পারেননি। অন্যান্য সময় ঈদ পরবর্তী দুই/তিন দিন পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন স্থানে কুরবানির বর্জ্য পড়ে থাকলেও এবারই প্রথম নগরবাসী এমন সুন্দর পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা দেখে সত্যিই মুগ্ধ।
তারা বলেন, ‘সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি নগর জীবনে এবার আমরা খুব আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করেছি। বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে এবারের ঈদে নাগরিক সৌন্দর্য্য ছিল উপভোগ্য। শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারে আসা ভক্তদের কাছে এবং সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে নগরের এই পরিচ্ছন্নতা ছিল অভিন্ন গল্পের মতো। তারা সহসাই নগর প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেছেন। সেইসাথে নাগরিক এই পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলেও মন্তব্য করেছেন।
জানা যায়, ঈদের দিন সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন।
এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে এবার আগে থেকেই সিসিক ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ধারাবাহিক সমন্বয় সভা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগর পরিষ্কারের এই দূরূহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটে কোরবানিদাতার সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ায়, আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেটবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সচেতন নগরবাসীর যৌথ প্রয়াসেই আজ এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ জন্য সহযোগিতার জন্য তিনি নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান।
সূত্র জানায়, বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শতভাগ সফল করতে ঈদের আগেই সিসিকের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক সচেতনতামূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছিল। এমনকি মসজিদে মসজিদে ইমাম ও খতিবদের দিয়েও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছি। এছাড়াও কোরবানিদাতাদের তালিকা তৈরি করে সিসিকের নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৩০ হাজার পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ ও পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া নাগরিকদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য চালু ছিল বিশেষ হটলাইন নম্বর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবার নগরে অনুমোদিত ১টি স্থায়ী ও ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট ছাড়াও বেশ কিছু স্থানে অবৈধভাবে পশু কেনাবেচা হয়েছিল। তবে বুধবার রাত থেকেই সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওইসব হাটের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দেন।
বৃহস্পতিবার মূল বর্জ্য অপসারণ কাজে সহস্রাধিক শ্রমিক দিনভর পরিশ্রম করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে সিসিকের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত আরও ৫৫টি ভারী ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করা হয়।
কাজ শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন বলেন, নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও আমাদের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা এই রেকর্ড সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পর জীবাণু ও দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে পুরো নগরীতে ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে।
সফলভাবে এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সম্মানিত নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর