ঢাকা ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৬
মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত বারেকের টিলা এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রুপের নদী যাদুকাটা এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড়ের কোলে এই স্থানটি একসঙ্গে দিচ্ছে পাহাড়, নদী ও সবুজ টিলার প্যানোরমিক ভিউ।গত বছর সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এখানে স্থাপিত হয় বারেকের টিলা ভিউ পয়েন্ট। ভিউ পয়েন্ট থেকে একদিকে দিগন্তজোড়া খাসিয়া পাহাড়, মেঘের হাতছানি অন্যদিকে যাদুকাটা নদী দেখা যায়। নীল আকাশ, সবুজ পাহাড় আর নদীর মিশেলে তৈরি হয় এক অদ্ভুত ক্যানভাস, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। প্রায় ৩৬৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বারেকের টিলায় রয়েছে কড়ই গড়া ও রাজাই গ্রাম। এখানে বসবাস করে খাসিয়া-গারো জনগোষ্ঠী। টিলার ওপরে রয়েছে সবুজ ঘাসের খেলার মাঠ-খালি পায়ে হাঁটলে মনে হয় নিউজিল্যান্ডের কোনো পাহাড়ি এলাকায় আছেন। ট্যুরিস্টদের জন্য মাত্র ৫০/১০০ টাকায় ছোট ঘোড়ায় চড়ে পুরো টিলা ঘোরার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাদুকাটা-বারেকের টিলা এখন টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক ও শিমুল বাগানের সঙ্গে একসঙ্গে ঘোরার রুটে ঢুকে গেছে। ফলে এক ট্রিপে ৪-৫টি স্পট কভার করা সম্ভব হচ্ছে। আদিবাসী গ্রাম ঘোরা, ঘোড়ায় চড়া ও নদীতে নৌকা ভ্রমণের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় অনেকেই এখন ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করছেন। ভিউ পয়েন্ট হিসেবে জায়গাটি ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব,রিলস এ ট্রাভেল কন্টেন্টের জন্যও আদর্শ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দাঁড়িয়ে দুই দেশের পাহাড় একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতাই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের বাস ভাড়া ৮২০-৮৫০ টাকা, সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা। সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেলে লাউড়েরগড় হয়ে যাদুকাটা নদী পৌঁছানো যায়। মোটরসাইকেল ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা। সবচেয়ে ভালো ভিউ পেতে উঠতে হবে বারেকের টিলার ভিউ পয়েন্টে। যাদুকাটা বারেকের টিলা অবকাঠামো সীমিত। ভালো রাস্তা, টয়লেট, গাইড সার্ভিস ও হোমস্টে গড়ে উঠলে বারেকের টিলা-যাদুকাটা সিলেট বিভাগের শীর্ষ তিন পর্যটন গন্তব্যের একটি হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের পাথর-বালি তোলার পাশাপাশি ট্যুরিজম থেকেও আয়ের নতুন পথ খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জ প্রশাসন যদি বারেকের টিলাকে অফিসিয়াল ভিউ পয়েন্ট হিসেবে উন্নত করে এবং প্রকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলে, তাহলে সব মৌসুমেই এখানে পর্যটকের ভিড় বাড়বে-এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host