ঢাকা ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর নতুন করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানকে টার্গেট করেছে দখলবার ইসরাইল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তার কার্যালয়ে আক্রমণ করেছে উগ্র ইহুদিবাদী সেনারা। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন খামেনি। তার সঙ্গে তার এক মেয়ে ও নাতনিও প্রাণ হারিয়েছেন। সেই হামলায় আহত হয়ে পড়ে ২ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খামেনির স্ত্রী।
ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ বলেছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে দফায় দফায় বোমা ফেলা হয়েছে।
বোমা আঘাত হেনেছে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ডে। খামেনিও এই কম্পাউন্ড ব্যবহার করেছিলেন।
ইসরাইলি দখলদার সেনারা জানায়, তেহরানের যে সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে পেজেকশিয়ানের দপ্তর, খামেনির কার্যালয়ও সেখানেই ছিল।
খামেনির সঙ্গে আরো নিহত হন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইল ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেকশিয়ানকে টার্গেট করে হামলা চালিয়ে দেশটিকে নেতৃত্বহীন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেই মনে করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন ভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু এবং মোট ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেছেন, ইরানের নয়টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশিবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, তেহরানের গান্ধী হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের জবাবে আইডিএফ জানিয়েছে, হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় দেশকে ওই হাসপাতালে হামলার জন্য দায়ী করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। একইসঙ্গে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন বাহিনী আইআরজিসির কমান্ড ও কন্ট্রোল সুবিধা, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চ সাইট এবং সামরিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস করেছে।
তাদের দাবি, এসব অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সুবিধাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের শত শত লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনী এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল সাইট। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার স্ত্রীসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি’র কারণে পররাষ্ট্র দপ্তর আমেরিকানদের যত দ্রুত সম্ভব এবং বর্তমানে চালু থাকা পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব দেশ ত্যাগ করতে পরামর্শ দিচ্ছে।
সতর্কবার্তায় যে দেশগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলোÑবাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক টুইট বার্তায় দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৫টি দেশের ভূখণ্ড বা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির উল্লেখ করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছেÑইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, বাহরাইন, ওমান, সিরিয়া, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, ইতালি এবং যুক্তরাজ্য।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host