ঢাকা ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
ছাতক প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় মসজিদের তহবিলের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গ্রামের মসজিদের পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য ফজল মিয়া (৪৯) নামে একজন নিহত হয়েছে।
নিহত ফজল মিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পুরাতন নোয়াবোর্ট গ্রামের বাসিন্দা মৃত সুনু মিয়ার ছেলে।
শনিবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। সংঘর্ষের গুরুতর মনির মিয়া, ইসমাইল আলী, আনোয়ার মিয়া, আলতাব হোসেন, আফতাব হোসেন, আব্দুল আলিম ও খালিক মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনার পর সীমান্ত এলাকার নোয়াকোর্ট গ্রামের চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াকোর্ট গ্রামে বাসিন্দা মাসুক মিয়ার কাছে দীর্ঘদিন যাবৎ মসজিদের তহবিলের প্রায় ৮ লাখ টাকা জমা ছিলো। সম্প্রতি গ্রামের লোকজন ও পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা মসজিদের বৈঠকে মাসুক মিয়ার কাছে টাকা হিসেব চাওয়া নিয়ে বাকবিতন্ডার ঘটনাও ঘটে। এ বিরোধের জের ধরে শনিবার সকাল ৯টায় মাসুক মিয়া নোয়াকোট গ্রামের চান মিয়া ও আয়না মিয়ার বাড়িতে দিয়ে তার বিরুদ্ধে জমা টাকার বিষয়ে কথা বলা নিয়ে কৈয়ফত চাইতে গিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর কিছু সময় পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন, এ সময় প্রতিপক্ষের দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য ফজল মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পাশ^বর্তী সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এরমধ্যে গুরুতর আহত ফজল মিয়াসহ ৮ জনকে সিলেটে হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় ইউপির ৩নং ওয়ার্ড সদস্য ময়না মিয়া বলেন, মসজিদের তহবিলের টাকা বেশ কিছুদিন ধরে পঞ্চায়েত কমিটির সাথে মাসুক মিয়ার ঝামেলা চলছিলো। নিয়ে মাসুক মিয়ার সাথে গ্রামের লোকজনের বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষে নিরীহ ফজল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুলত মসজিদের টাকার হিসেব নিয়ে এ সংঘর্ষ। এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host