সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সুনামগঞ্জের তিনটি ইউনিয়ন, চরম দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৬

সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সুনামগঞ্জের তিনটি ইউনিয়ন, চরম দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও সেতু ধসে পড়ায় আশপাশের তিনটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রায় ৭০ বছর পুরোনো সেতুটি চলতি বছরের রমজান মাসে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এর ফলে সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে সেই সংস্কার টেকেনি। বর্তমানে সেতুটি পুরোপুরি ধসে পড়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের বিকল্প হিসেবে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজার দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহরুখ মিয়া বলেন, ঘুরপথে যাতায়াত করতে হওয়ায় ভাড়া বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। শহরে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় তিন দশক ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, এই সেতুটি এলাকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। এটি ভেঙে পড়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশে দ্রুত অস্থায়ীভাবে চলাচল চালু করতে বেইলি সেতুর আদলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়াও চলছে।
সৌজন্যে : সিলেট ভয়েস

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর