ঢাকা ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরানের দেওয়া ১০টি প্রস্তাবের সবকয়টি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই প্রস্তাবের দশম নম্বর ছিলÑলেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। তবে এই শর্ত মানতে রাজি নয় আগ্রাসন চালানো ইসরাইল। খবর আল জাজিরার
বুধবার (৮ এপ্রিল) দখলদার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে তেল আবিব। তবে এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, ইসরাইল সেখানে অভিযান চালাতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করছে। যার লক্ষ্য হলো ‘ইরান যেন আর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, ইরানের আরব প্রতিবেশী এবং বিশ্বে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে জানিয়েছে, শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় এসব লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না। যদিও এটি ইরানের দেওয়া শর্তের একটি।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ে ২ মার্চ। যখন ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা চালায়। হিজবুল্লাহ জানায়, এসব হামলা ছিল ইসরাইলের হাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়াও ছিল এটি।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলের হামলায় দেশটিতে ১,৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করেছে। তারা ‘বাফার জোন’ তৈরির জন্য আরও এলাকা দখলের লক্ষ্য নিয়েছে। এবার দিলেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র তরফ থেকেও চুক্তিলঙ্ঘনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইরানের দেওয়া ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দাবিগুলোর একটি বাদে সব কয়টি মেনে নিয়েছে ইসরাইলও। তবে প্রায় সবগুলোই দখলদার দেশটির স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে ইসরাইলজুড়ে।
যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চুপ থাকার কারণে ইসরাইলি জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সমালোচকদের দাবি, নিজের অবস্থান থেকে কিছুই বলার ছিল না নেতানিয়াহুর। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে একপ্রকার পরাজয় হিসেবে দেখছেন তারা।
ইসরাইলের বিরোধী দলের নেতা ইয়ার ল্যাপিড এই চুক্তিকে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে লাপিদ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরাইলকে আলোচনাতেই রাখা হয়নি।’
তিনি জানান, সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং সাধারণ জনগণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। তবে তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু ‘রাজনৈতিক’ ও ‘কৌশলগত’Ñদুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছেন। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
এদিকে নিৎজান শাপিরা নামের ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একটি পোস্টে তিনি বলেন, আজ রাতে কি কোনো ইসরাইলি কর্মকর্তা বা সূত্র জনগণের সঙ্গে কথা বলবে? তারা কি কিছু লিখবে? কোনো আপডেট দেবে? নাকি আমরা এখনো ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ এবং পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্রের বক্তব্য থেকেই পরিস্থিতি জানতে থাকব?
একইসঙ্গে ইসরাইলের জনগণও এই যুদ্ধবিরতিকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। তাদের মতে, ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়েই আছে। তাদের এতটুকুও টলাতে পারেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host