সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক
শিক্ষায় সিলেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক</span> <br/> শিক্ষায় সিলেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, “এক সময় সিলেট ছিল শিক্ষায় অগ্রসর একটি অঞ্চল। কিন্তু আমরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনি। বর্তমানে শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে পড়েছে। হারানো সেই গৌরব পুনরুদ্ধারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বুধবার (২০ মে) সকালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে আয়োজিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারীশিক্ষায় সিলেটের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, “একসময় সিলেটে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। তারপরও কিছু অগ্রগামী নারী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। শামসি খানম চৌধুরী ছিলেন সিলেটের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট, যিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়া ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী প্রথম নারী ছিলেন মৌলভীবাজারের রাজনগরের লীলা নাগ।”
তিনি বলেন, “সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ নারীশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক নারী পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই এ কলেজকে সিলেটের নারীশিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়।”
তবে কলেজটির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন এখনও হয়নি উল্লেখ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আশির দশকে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান এ কলেজকে জাতীয়করণ করেন। কিন্তু এখনও এখানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কমার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাঠদানের সুযোগ নেই। আমরা নতুন নতুন বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা চালু, প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদ সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “উচ্চশিক্ষার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের ফলাফল ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডিভাইসে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক অনুপা নাহার ওয়ালেদা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সামছুল ইসলাম ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মোছাম্মৎ নাহিদা আক্তার।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা, সংস্কৃতি, পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর