ঢাকা ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেছে। দুই পক্ষই আলোচনায় বসেছিল নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী দাবি করে, ফলে স্বল্প সময়ে সমাধানে পৌঁছানো শুরু থেকেই কঠিন ছিল বলে বিশ্লেষকদের মত।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে। এতে করে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও ‘ধ্বংসাত্মক’ হুমকির প্রেক্ষাপটে। তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেই আলোচনার সূচনা হয়েছিল।
এখন বড় প্রশ্নÑএই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? যুদ্ধবিরতি কি টিকবে, নাকি নতুন করে সংঘাত শুরু হবে?
বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড জানান, নতুন করে হামলা শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও সম্ভাবনা স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা ইরান আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটি পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন আর আলোচনার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে নাÑএমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কোনো মারণাস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে না।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের ভেতরে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পক্ষে জনমতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি আলোচনা ছিল একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তবে ফলহীন এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি ঘোষণা করেছেন, মার্কিন বাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত জাহাজ ‘অবরোধ’ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এক সময় এমন পরিস্থিতি আসবে যখন সব জাহাজ অবাধে যাতায়াত করতে পারবে, কিন্তু ইরানের অনমনীয়তার কারণে এখনই তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল বা মাশুল প্রদান করেছে, সেগুলোকে খুঁজে বের করতে এবং বাধা দিতে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের মতে, যারা ইরানকে ‘অবৈধ টোল’ দেবে, মুক্ত সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা থাকবে না। এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি বাংলা
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host