২ সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

২ সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

শান্তি আলোচনায় ১০ প্রস্তাব নিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানের সম্মতি * প্রস্তাব ‘নীতিগতভাবে’ মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প * ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক * শর্ত সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান * যুদ্ধবিরতিকে ‘বিজয়’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র এবং হরমুজ প্রণালিতে যানজট নিরসনে কাজ করবে তারা * ইরানে বন্ধ করলেও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাবে আইডিএফ

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
এক নাটকীয় ঘোষণায় ইরানের ওপর পরিকল্পিত ভয়াবহ হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা রাতে ইরানের ওপর আমাদের যে ধ্বংসাত্মক হামলার পরিকল্পনা ছিল, তা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং ইরান অবিলম্বে ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ ও নিরাপদে খুলে দিতে রাজি হওয়ার শর্তে, আমি আগামী দুই সপ্তাহ হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। তিনি জানান, ইরান থেকে একটি ১০ দফার শান্তি প্রস্তাব এসেছে, যা একটি কার্যকর সমঝোতার ভিত্তি হতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তার সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও অতিক্রম করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ প্রায় সব পয়েন্টেই একমত হওয়া গেছে। এই দুই সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়েছে চুক্তিটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি ‘ডাবল সাইডেড’ বা দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি হবে। তিনি একে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো আমার জন্য সম্মানের।
উল্লেখ্য, বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের শেষ দিন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, রাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধের উত্তেজনা আপাতত প্রশমিত হলো। এখন সবার নজর আগামী দুই সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনার দিকে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে এ সম্মতি দিয়েছে বলে আল-জাজির এ প্রতিবেদনে জানা গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব সামনে এসেছ। আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় ইরান এই ১০ দফার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সরাসরি অনুমোদনেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে।
বিবৃতিতে এই চুক্তিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, এই দুই সপ্তাহের সাময়িক বিরতির পর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব সামনে এসেছ। আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় ইরান এই ১০ দফার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো হলোÑ
ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের’ প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরান ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ তৈরির দাবি করেছে যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থাকবে ইরানের ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। এটি মূলত হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি। ইরানের বিরুদ্ধে থাকা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাবনা প্রত্যাহার করতে হবে। বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ‘পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ দাবি করা হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে।
ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এর থেকে সরে যেতে না পারে।
এদিকে ইরান বুধবার ভোরে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘নীতিগতভাবে’ তাদের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রস্তাবটি একটি বড় চুক্তির জন্য আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তবে পরিকল্পনার সব বিষয় প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রস্তাবে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি। এ ছাড়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ইরানবিরোধী প্রস্তাব বাতিল, ক্ষতিপূরণ প্রদান, এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধ বাহিনী প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা।
কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে, এই আলোচনার মানে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ইরানের শর্তগুলো পূরণ এবং বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত হলে তবেই চূড়ান্ত চুক্তি হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা দুই সপ্তাহ চলবে। দুই পক্ষ রাজি হলে সময় বাড়ানো যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে। ইরানের প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য ‘কাজ চলার মতো ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর নিজেদের প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে একথা জানান। তিনি বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ করবে।
একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করতে হবে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।
এদিকে ইরানের ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে তেহরান। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভেট দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিকে মার্কিনিদের ‘বিজয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কারোলিন লিখেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী সম্ভব করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অবদান সামনে এনে তিনি বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সফলতা সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে। যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার টিম কঠোর আলোচনায় বসতে পেরেছেন। আর সেই আলোচনার মাধ্যমেই এখন কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরান বুধবার ভোরে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘নীতিগতভাবে’ তাদের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি এই তথ্য জানিয়েছে। এই প্রস্তাবটি একটি বড় চুক্তির জন্য আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তবে পরিকল্পনার সব বিষয় প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। যদিও ইসরাইল বুধবার ভোরেও ইরানে হামলা চালিয়েছে। দখলদার দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২ বুধবার ভোরে জানিয়েছে, ইসরাইল নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরানে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যুদ্ধবিরতির পরও ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া অব্যাহত রাখে। মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত জাহাজগুলির যানজট নিরসনে কাজ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যাতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যায়। বুধবার (৮ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরাইল এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ উল্লেখ করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কারণ তারা ক্লান্ত। পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালিতে যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত জানাননি।
মঙ্গলবার রাতে শর্তসাপেক্ষ ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর, বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হবে, যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলিকে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ দেবে। এদিকে আপাতত ইরানে হামলা বন্ধ করা হয়েছেÑ এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)। তবে লেবাননে অভিযান চালানো হবে।
বিবিসির প্রতিবেদন জানায়, ইরানে ‘এক দফা হামলা শেষ করেছে’ বলে এক বিবৃতি দিয়েছে আইডিএফ। এখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আইডিএফ আরো বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সীমা লঙ্ঘন করা হলে তারা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর