ঢাকা ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাকনা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৪০ ও ৪১ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পিআইসি থেকে বঞ্চিত আবেদনকারীরা গত ২৮ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগটি করা হয়েছে পাউবো জামালগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহিদুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা হলেন, পিআইসির আবেদনকারী সভাপতি মো. কালা মিয়া (পিতা: মো. সুলাইমান মিয়া) এবং অপর আবেদনকারী সভাপতি মো. লাট মিয়া (পিতা: সাধু মিয়া)। তারা দু’জনই জামালগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকা পাকনা হাওরের বগলা খালী সংলগ্ন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ৪০ ও ৪১ নম্বর পিআইসির আশপাশ ও নিকটবর্তী এলাকায় অভিযোগকারীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোরো জমি রয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধের পাশেই তাদের বসতভিটা অবস্থিত। বিগত বছরগুলোতে তারা ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থায় কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছেন। এর প্রমাণ সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন বহিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। চলতি মৌসুমে তারা নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসির জন্য আবেদন করেন। গণশুনানি শেষে প্রাথমিক তালিকায় তারা প্রথম সারিতে থাকলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তাদের নাম বাদ দিয়ে দূরবর্তী গ্রামের ব্যক্তিদের এই দুটি পিআইসির দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, নীতিমালা উপেক্ষা করে পাউবো জামালগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহিদুল ইসলাম জনির যোগসাজশে তার পছন্দের ব্যক্তিদের পিআইসি দেওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূত, প্রশ্নবিদ্ধ এবং গোপন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
তারা অভিযোগ করেন, অতীতে এই বাঁধে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সমস্যা দেখা দিলে তারা স্বেচ্ছায় শ্রম ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন। এমনকি গত বছরও এসও তার পছন্দের লোক দিয়ে এই বাঁধের কাজ করিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় এলাকার কৃষক ও কমিটির সদস্যরা আপত্তি জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
হাওরের বাঁধ রক্ষা এবং কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান অভিযোগকারীরা। পাশাপাশি, তাদের বসতভিটা ও জমির পাশের এই প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পাউবো জামালগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, অভিযোগপত্র এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। ফলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। অভিযোগপত্র ইউএনও মহোদয়ের কাছে দেওয়া হলে তিনিই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে ইউএনও মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করবেন এবং প্রয়োজনে তদন্ত কার্যক্রমে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
তিনি জানান, আলোচিত এই দুটি পিআইসির বরাদ্দের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকারও বেশি। উপজেলায় মোট ৪১টি পিআইসি রয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর হালির হাওরে পিআইসির কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে এর মধ্যে ১৫টি পিআইসির কাজ চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মুশফিকুন নুর বলেন, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণে এবারের দুই পিআইসির বঞ্চিতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এ কারণে তাদেরকে এবার বাঁধের কাজ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গতবার পিআইসি সভাপতি কালা মিয়ার কাজ সন্তোষজনক হয়নি। তাই তাদেরকে কাজ দেওয়া হয়নি। তবে আমার বরাবরে যেহেতু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সুযোগ থাকলে তাদেরকে কাজ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host