অন্তত দুই হাজার গাছ মরে উজাড় হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ
সুনামগঞ্জে সড়কের পাশের গাছ বাঁচাতে উদাসীন বন বিভাগ

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>অন্তত দুই হাজার গাছ মরে উজাড় হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ</span> <br/> সুনামগঞ্জে সড়কের পাশের গাছ বাঁচাতে উদাসীন বন বিভাগ

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সাচনাবাজার সড়কের এবং সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের দুই পাশের অন্তত দুই হাজার গাছ মরে গিয়ে উজাড় হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। গাছ বাঁচাতে বন বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সুনামগঞ্জ শহরের পূর্বদিকে দোয়ারাবাজার যাতায়াতের সড়ক এবং শহরের দক্ষিণ দিকে সাচনাবাজার যাতায়াতের এই সড়ক অবস্থিত। মোট ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরেই অন্তত দুই হাজারের বেশি গাছ মারা গেছে। এসব গাছের বয়স প্রায় ২৫ থেকে ৪০ বছর বা তার চেয়েও বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মূল্যবান এসব গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুজ জহুর সেতু থেকে সাচনা বাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ। একসময় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীরা শীতল ছায়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ বছর এই সড়কের প্রায় সহস্রাধিক গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। অনেক গাছ গোড়া উপড়ে হেলে পড়েছে সড়কের দুই পাশে।

একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার ১৮ কিলোমিটার সড়কেও। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার মূল্যবান গাছের মধ্যে এ বছর অন্তত এক হাজারের বেশি গাছ মরে পড়ে আছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও কয়েক হাজার গাছ মারা যেতে পারে।

একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সড়কের পাশে হেলে পড়া বা মরে যাওয়া গাছগুলো কতিপয় ব্যক্তিরা রাতের আধারে নিয়ে যায় ‘স’ মিলে। গাছ বিক্রি করার সাথে সাথে অসাধু মিল মালিকেরা কাঠ তৈরি করে ফেলেন। এটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেননি।

সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের পাশের বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, সড়কের পাশে মরে যাওয়া গাছগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, এসব গাছের যেন কোনো মালিক নেই। গাছ মরে গেলে দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি আমাদের মনে খুব পীড়া দেয়।

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের পাশের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, সড়কের দুই পাশের সবুজ চিত্র আর থাকবে না। শীতল হাওয়ায় চলাচলের যে স্বস্তি ছিল, তা হারিয়ে যাবে। এই সৌন্দর্য আগামী চল্লিশ বছরেও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের সিএনজি চালক শাহ জামাল বলেন, গরমের দিনে গাছের নিচে গাড়ি আসলে যাত্রীরা স্বস্তির নি:স্বাস ছেড়ে বলেন, গাছের নিচে গাড়ি আসলেই বেশ ঠান্ডা লাগে। আহ্ কী সুন্দর সারিবদ্ধ দৃশ্য।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুনামগঞ্জের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠনের সেক্রেটারী ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, দোয়ারা ও সাচনা সড়কের দুই পাশের মূল্যবান গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক গাছ মরে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গাছ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বর্তমানে সড়কের গাছ কর্তন বন্ধ রয়েছে। প্রতি বছর গাছ কর্তন ও রোপণের কর্মসূচি থাকলেও দলীয় সরকার গঠন হলে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর