অদৃশ্য কারণে এখনও অধরা, যৌথবাহিনীর অভিযান চায় স্থানীয়রা
পুলিশের মামলা দায়েরের পরও বেপরোয়া রাসা

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>অদৃশ্য কারণে এখনও অধরা, যৌথবাহিনীর অভিযান চায় স্থানীয়রা</span> <br/> পুলিশের মামলা দায়েরের পরও বেপরোয়া রাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলার বালু-পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ এনে গত ৩০ ডিসেম্বর’২৫ কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (২৯/২০২৫) দায়ের করেন থানার এসআই কামরুল আলম। এর আগে তিনি ওই এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করেন। ওই অভিযানে বাবুলনগর এলাকার জনৈক আব্দুল কাইয়ুমের চায়ের দোকানের সামনে থেকে ৪টি পাথর বোঝাই মাহিন্দ্রা হাইড্রোলিক ট্রাক্টরসহ ১৬ জনকে হাতেনাতে গেফতার করেন। এসময় প্রায় ৪০০ ঘনফুট পাথর উদ্ধার ও জব্দ করাসহ আইনী পদক্ষেপ হিসেবে খনি ও খনিজ সম্পদ আইন ১৯৯২ এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯/৪৩১/৪১১ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
ওই মামলার অন্যতম আসামি হলো পাড়ুয়া উজানপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে ইলিয়াস আলী রাসা(৪৩) ও একই গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন(৪২)।
শাহ আরেফিন টিলার বালু-পাথর লোপাটের নেপথ্যে ওই দুই কুতুবই দায়ী বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনতা। তদন্তে একই তথ্য পেয়েছে থানা পুলিশ। কিন্তু মামলা দায়েরের পরও এখনও বেপরোয়া এলাকার ত্রাস রাসা। অদৃশ্য কারণে তাকে গ্রেফতারও করছে না থানা পুলিশ। তবে, থানা পুলিশ এককভাবে রাসাকে গ্রেফতার করতে পারবে না বা অভিযানে যৌথবাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন এসআই কামরুল।
স্থানীয়রা জানান, ইতোপূর্বে রাসা ও জসিমের কুকীর্তি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। এতদসবের পরও তাদেরকে গ্রেফতার করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যার ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। বিশেষ করে রাসায় অতীষ্ঠ এলাকাবাসী। তার প্রকাশ্য মদদদে ও ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমেই লুট হয় আরেফিন টিলার বালু ও পাথর। এখন সে গোপনে তার এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে রীতিমত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উল্টো থানা পুলিশ বা যৌথবাহিনী তার কিছুই করতে পারবে না এমনটি বলে বেড়াচ্ছে। এলাকার যুব সমাজকে তার পক্ষে কাজ করতে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছে। সেইসাথে প্রতিনিয় নিজের দল ভারী করারও পায়তারা করছে।
এছাড়া, রাসা নিজেই একজন কুখ্যাত মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। সীমান্তে তার বড়সড় একটি মাদক সিন্ডিকেটও রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে মাদকের চালান এনে তা নিজ উপজেলাসহ জেলা তথা গোটা দেশে পাচার করে থাকে তার বাহিনী। একই কাজেও তার একটি দক্ষ টিম রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে বিজিবি ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওপারের মাদকগুলো এপারে নিয়ে আসা এবং সেগুলো নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দেওয়া। এসব কাজে সে স্থানীয় যুবকদের টানার চেষ্টা করছে। অল্পতে বড় লোক বনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রির কাজে লাগাচ্ছে।
রাসার এমন কর্মকান্ডে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা নিজেদের ছেলেদের নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, যেকোনো সময় রাসার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বহারা হতে পারে এখনকার যুব সমাজ। রাসা তাদেরকে প্রতিনিয়ত প্রলোভন দিচ্ছে। তার সাথে কাজ করতে বড় অঙ্কের লোভ দেখাচ্ছে। নিজের গুন্ডাবাহিনী বড় করতে এবং পাথরখেকো সিন্ডিকেট বাড়াতে সে এমনটি করছে বলে তারা জানান।
স্থানীয় বেশ কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা অনতিবিলম্বে রাসার গ্রেফতার চান। এজন্য আইনী পদক্ষেপ নিতে তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোটা দেশ জুড়ে চিরুনি অভিযান চলছে। যৌথবাহিনী প্রতিদিনই কোনো না কোনো ডেভিল ধরছে। কিন্তু একাধিক মামলা থাকার পরও, শত শত প্রমাণ থাকার পরও আওয়ামী দোসর রাসা ও জসিমকে গ্রেফতার করছে না। কোন অদৃশ্য কারণে এমনটি হচ্ছে তারা জানেন না। নিজেদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কা প্রকাশ করে শীঘ্রই রাসা ও জসিমকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর