পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করছেন মহিলা কৃষকরা
তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাওরে বোরো রোপণের মহোৎসব

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করছেন মহিলা কৃষকরা</span> <br/> তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাওরে বোরো রোপণের মহোৎসব

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
পৌষের হাড়কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া- কোনো কিছুই দমাতে পারছে না সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের কৃষকদের। ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা নেমে পড়ছেন কাদামাখা ফসলি মাঠে। জীবন-জীবিকার তাগিদে মেঘালয় সীমান্তবর্তী এই জেলার ছোট-বড় ১৭০টি হাওর এখন কৃষকদের অবিরাম কর্মযজ্ঞে মুখর। মাঠজুড়ে চলছে কর্মব্যস্ততা।

সরেজমিনে টাঙ্গুায়ার হাওর, শনির হাওর, দেখার হাওর, খরচা ও নালুয়াসহ বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বোরো চাষের ধুম পড়েছে চারদিকে। কোথাও ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ হচ্ছে, কোথাও বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে কচি চারা রোপণের কাজ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কেবল পুরুষ কৃষকরাই নন, শামিল হয়েছেন পরিবারের শিশু ও মহিলারাও। এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছে চারা রোপণ ও আঁটি বাঁধার কাজে।

হাওরে কাজের চাপ এতই বেশি যে, দিনের বেলা স্থানীয় বাজারগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি অনেকাংশেই কমে গেছে। সবার এখন একটাই লক্ষ্য-দ্রুত চারা রোপণ শেষ করা। জীবন ও জীবিকার লড়াই হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও অর্থনীতি মূলত এক ফসলি বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল।

সদর উপজেলার অমৃতশ্রী গ্রামের কৃষক জহুর আলী জানান, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে কাজ করছেন তিনি।

জামালগঞ্জের হাফিজ উদ্দিন ও শান্তিগঞ্জের কামরুল ইসলাম রতনের কণ্ঠেও একই সুরÑসারা বছরের খোরাকি জোগাতে এই কষ্টের বিকল্প নেই।

তবে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজও রয়েছে। ডিজেল, সার ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার চাষের খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। তার ওপর প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় ফসল তোলার পর দেনা পরিশোধ করতেই হিমশিম খান। তারা আশা করছেন, ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি যদি ধানের ন্যায্য দাম পান, তবেই তাদের এই হাড়ভাঙা খাটুনি সার্থক হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২,২৩,৫০৫ হেক্টর।

এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৭২,০০০ হেক্টর (প্রায় ৭৫%) জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। হাওরে রোপনকৃত স্থানীয় ধান বিআর-২৮, ২৯, ৮৮, ৮৯, ১০০ এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে এসল-৮ ও জনকরাজ উল্লেখযোগ্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আমরা আশাবাদী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা মাথায় নিয়েও বুকভরা আশা আর সোনালী স্বপ্নের প্রত্যাশায় ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন সুনামগঞ্জের লড়াকু কৃষকেরা।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর