নিরাপত্তাহীনতায় বিশ্বনাথের ‘একঘরে’ করে রাখা পরিবার

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

নিরাপত্তাহীনতায় বিশ্বনাথের ‘একঘরে’ করে রাখা পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রামের রাস্তা সংস্কার নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বনাথে একটি পরিবারকে ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের ছোট খুরমা গ্রামের বাসিন্দা মো. ফাহিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম উদ্দিন নিজেকে ছাত্রদলকর্মী ও অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দাবি করে বলেন, শুধুমাত্র তাদের জিম্মি করে চাঁদা নেওয়ার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ইন্দনে এসব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একঘরে করে রাখার কারণে তার পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। পড়াশোনা, চিকিৎসা ও বাজার করার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছে।
তিনি জানান, তার বাবা গুরুতর অসুস্থ হলেও ভয়ভীতির কারণে তাকে নিয়ে বাড়িতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ছোট ভাইবোনেরা বাড়িতে অবস্থান করছে। কিন্তু তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রামের একটি রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও জনপ্রতিনিধি তা বাস্তবায়ন না করায় এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়ে। এ বিষয়ে কিছুদিন আগে তার ইতালি প্রবাসী ভাই ফেসবুকে একটি মন্তব্য করেন। এরপরই গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তার অভিযোগ, ভাইয়ের ফেসবুক মন্তব্যের পরদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা গ্রামের কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে স্কুল মাঠে বৈঠক ডাকেন এবং তাকে সেখানে ডেকে পাঠান। বৈঠকে তার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করলেও এরপর থেকে তার পরিবারকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার ও হুমকি শুরু হয়।
ফাহিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার নামে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের নামে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। দৈনিক কামাল বাজার, প্রতিবাদী বিশ্বনাথ, সত্যবাদী ও তাজা খবর নামের ভুয়া পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার কারণে একটি বৈঠকে উপস্থিত হতে না পারায় গ্রামের কয়েকজন মিলে তার পরিবারকে ‘একঘরে’ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর থেকেই তিনি ও তার বাবা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, অলংকারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিক মিয়া, রিয়াজ আলী ও আব্দুন নূরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা একঘরে রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিনিময়ে প্রথমে এক লাখ এবং পরে মোট দশ লাখ টাকা দাবি করছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম উদ্দিন সিলেটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের কাছে তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর