ওসমানীনগরে শেষ সময়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, খুররম-মান্নাত-ফারসীতে সরগরম মার্কেট

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২৬

ওসমানীনগরে শেষ সময়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, খুররম-মান্নাত-ফারসীতে সরগরম মার্কেট

হারুন রশিদ, ওসমানীনগর
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন বিপণিবিতান, প্রসাধনী ও রেডিমেড পোশাকের দোকান। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকালে উপজেলার গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীরসহ বিভিন্ন ছোটখাটো বাজার মার্কেট ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিভিন্ন নামের পাকিস্তানি থ্রি-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খুররম, মান্নাত, ফারসী,আফগান, দেওয়ানা, বেতাবীসহ নানা নামের পোশাকে ভরপুর দোকান ও শপিংমল। এসব থ্রি-পিসের দাম দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত।
গোয়ালাবাজার টেমস টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় দশক থেকে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। জামা-কাপড়ের পাশাপাশি এখন গহনা, জুতা ও স্যান্ডেলের চাহিদাও বাড়ছে।
তাজপুর বাজারের আলহাজ্ব সাহিদ উল্লাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী সুমন আহমদ বলেন, ভোর থেকেই ক্রেতারা মার্কেটের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা অনেক ভালো।
ইরশাদ আলী শপিং সিটির এক বিক্রেতা জানান, গতবারের তুলনায় এবার পাকিস্তানি থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি, বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঞ্জাবি, পায়জামা, শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শিশুদের পোশাক, কুর্তা, পুরুষদের প্যান্ট, শার্ট ও টি-শার্টসহ ছেলেদের আউট ফিড কালেকশনে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। ছোটখাটো দোকানেও ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি টেইলারিং দোকানগুলোতেও ক্রেতারা পছন্দমতো পোশাকের মাপ দিতে ভিড় করছেন।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা রাহেলা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, গতবারের তুলনায় এবার থ্রি-পিসের দাম অনেক বেশি। তবুও সন্তানদের ঈদের আনন্দের কথা ভেবে বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা রিমা বেগম বলেন, কাপড়-চোপড়ের দাম এবার আগের তুলনায় বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি থ্রি-পিসের দাম বেশি। ভারতীয় থ্রি-পিস বাজারে কম থাকায় পাকিস্তানি থ্রি-পিসই বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
মামুন মিয়া নামের এক সেনা সদস্য বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে এসেছি পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে ঈদ করবো, তবে বাজারে এসে দেখলাম পোশাকের দাম গত বারের চাইতে একটু বেশি, বড় বড় মার্কেট গুলোতে পাঞ্জাবির দাম বেশি, বোনের জন্য শাড়ী এবং অন্যান্য সদস্যদের জন্য বিভিন্ন জামা কিনেছি, কিন্তু নিজের জন্য কিছুই কিনতে পারিনি।
দয়ামীর বাজারের রহমান কসমেটিক্সের দোকানদার সুজন মিয়া জানান, কসমেটিক্স কেনাকাটার চাপ এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে এক-দুই দিনের মধ্যে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত বাজারে কেনাবেচা চলবে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, যানজটসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা মাঠে রয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ খবর