ঢাকা ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
মোহাম্মদ শাহজাহান, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঘোঘগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। প্রথম জীবনে ছিলেন বাস গাড়ির হেলপার। তারপর একে একে বেশ কয়েকটি সিঁড়ি বেয়ে হয়ে যান শ্রমিকনেতা। দীর্ঘ ষোল বছরেরও বেশি সময় ছিলেন সিলেটÑবিশ্বনাথÑজগন্নাথপুরÑরামপাশা শ্রমিক উপ কমিটির সেক্রেটারি। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেখান থেকে ও নানা অনিয়মের অভিযোগে শাখার শ্রমিকরা তাকে লাঞ্চিত করে অপসারণ করে। সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় শ্রমিকদের ঘামও শ্রমের টাকা আত্মসাৎ করে হয়ে যান বাস গাড়ির মালিক। একে একে করায়ত্ত করেন পনেরটিরও বেশি বাস। স্বপ্ন দেখেন বাস মালিক গ্রুপের নেতা হওয়ার।
বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সাথে ও মিলান হাত। সিসিকের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা। আওয়ামীলীগের নাম ভাঙিয়ে শ্রমিকদের শোষন করে নিজেকে জাহির করতে শুরু করেন। দলীয় সভা সমাবেশে নিয়মিত যোগদান এবং নেতাদের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
২৪ এর ছাত্র জনতার আন্দোলনের পট পরিবর্তনের পর তিনি কিছুটা হোচট খান। সিলেটÑ৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মালিকের বাস ভবন পুড়ানোর মামলার ১৬নং আসামি শাহজাহান হওয়ায় কিছু দিন ছিলেন আত্মগোপনে। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন।
তাদের বদান্যতায় এক সময় আবার চলে আসেন শ্রমিকদের সামনে, বিভিন্ন কায়দা কানুন খুজতে থাকেন আধিপত্য বিস্তারের, সে সুযোগ অতি সহজেই চলে আসে তার কাছে।
বিশেষ করে গত ৯ ফেব্রুয়ারি’২৬ সিলেটÑবিশ্বনাথÑজগন্নাথপুরÑরামপাশা বাস মালিক গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর শাহজাহান যেন একটু নড়েচড়ে ওঠে। সে মালিক গ্রুপের চেয়ারম্যান হতে শুরু করে লবিং। মালিক সমিতির সদস্যদের নিয়ে পৃথক বলয় গড়ার চেষ্টা শুরু করে।
সিলেটÑবিশ্বনাথÑজগন্নাথপুরÑরামপাশা বাস মালিক গ্রুপের চেয়ারম্যানের মৃত্যুজনিত শূন্যপদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে হাজী ফারুক মিয়াকে পুরো মালিক সমিতি দায়িত্ব প্রদান করেন। শাহজাহানের নানা টাল বাহানার অবসানে গত ২ সপ্তাহ আগে মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরীর ভাই সুমন পারভেজ চৌধুরীকে সাধারণ সভার মাধ্যমে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহনের জন্য প্রস্তাব করা হয়। এতে ও শাহজাহানের তাতে মন ভরেনি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন, তিনি এ পদে যেকোনভাবে আসীন হতে চান। তিনি তার মনোনীত কতিপয় সদস্যদের নিয়ে মালিক সমিতিকে বগলদাবা করতে চান।
সেই হিসেবে গত ২৭ এপ্রিল মালিক গ্রুপ কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে অফিস থেকে বিতাড়িত করে তার মনোনীত লোককে কাউন্টারে বসান। এসময় মালিক ও শ্রমিক সমিতির উপস্থিত সদস্যরা তার কাজে বাধা দিলে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তুমুল পরিস্হিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসনসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এসে হাজির হন। তাদের মধ্যস্হতায় উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তারপরও শাহজাহান থেমে থাকেননি। তিনি মালিক সমিতিকে দায়ী করতে একের পর এক ফন্দি ফিকির চালিয়ে যাচ্ছেন।
সিলেটÑবিশ্বনাথÑজগন্নাথপুরÑরামপাশা বাস মালিক গ্রুপের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী ফারুক মিয়া বলেন, বাস মালিক সমিতির সদস্য শাহজাহান জোরপূর্বক সভাপতি হতে চান। সুহেল আহমদ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে যান। এক শ্রেণির মালিক ও শ্রমিক নামধারীদের সাথে নিয়ে মালিক সমিতিকে করায়ত্ত করতে তিনও সচেষ্ট রয়েছেন। গতদিনের সংঘটিত সংঘর্ষের মুল নায়ক এই শাহজাহান। আমরা মালিক গ্রুপ শাহজাহানের সকল অপকর্মের সঠিক বিচার চাই। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম এ ব্যাপারে আলাপকালে বলেন, সিলেটÑবিশ্বনাথÑজগন্নাথপুরÑরামপাশা বাস মালিক গ্রুপের চেয়ারম্যানের মৃত্যুজনিত সৃষ্ট শূন্যপদ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host