ঢাকা ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কম বয়সে বড় সম্মাননা পাওয়ার ব্যাপারে মানুষ এখনো অভ্যস্ত নয় : অর্থী আহমেদ
প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক :
নৃত্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য চলতি বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা পাওয়ার খবরে যেমন আনন্দিত তিনি, তেমনি অনুভব করছেন এক ধরনের আক্ষেপও।
কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি নিয়ে নিজের অনুভূতি, সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছেন তিনি।
কারণ, আমি নিজে যেহেতু এরজন্য আবেদন করিনি, এর আগে এই বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এরপর আমি বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেরিফাই করি এবং নিশ্চিত হই।
দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক প্রাপ্তি নিয়ে অনুভূতিটা কেমন?
সত্যি বলতে অবাক হয়েছি। ভালো তো অবশ্যই লাগছে।
রকম একটা সম্মাননা প্রাপ্তি যে কারও জন্যই অনেক আনন্দের, একইসঙ্গে গর্বের। তবে এটা হজম করতে আমার অনেক খানি সময় লেগেছে। একইসঙ্গে আমার মন খারাপও হয়েছে।
সেটা কেন?
আমার সিনিয়র অনেক গুণী নৃত্যশিল্পীরা রয়েছেন যারা এই সম্মাননাটা পাননি, তাদের জন্যই আমার মন খারাপ হয়েছে। এখন রাষ্ট্র যদি মনে করে আমাকে এই সম্মাননা দেবে, আমি তো সেটা ফিরিয়ে দিয়ে অসম্মান করতে পারি না।
বেশিরভাগের কাছ থেকেই ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। আবার দেখছি অনেকেই মন খারাপ করেছেন তাদের শিক্ষকদের জন্য। আমার নিজেরও মন খারাপ হয়েছে আমার শিক্ষক লুবনা মরিয়মের জন্য। কারণ, আমি মনে করি বাংলাদেশে এখন একুশে পদক পাওয়ার জন্য সবচেয়ে ডিজার্ভিং পারসন হচ্ছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আপনার এই পদক প্রাপ্তি নিয়ে নানারকম সমালোচনা করছেন। এই সমালোচনাগুলো নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
কম বয়সে একুশে পদক বা যেকোনো বড় সম্মাননা পাওয়ার ব্যাপারটায় মানুষ এখনো অভ্যস্ত নয়। আমি সেটা বুঝি। আমার কাজের ধরন একটু আলাদা। আমি স্টেজ শো বা রিলস করি না বলে হয়তো অনেকেই আমাকে সরাসরি চিনেন না। আমি মনে করি, নৃত্যশিল্পীদের চাইতে সাধারণ মানুষদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতাটা বেশি। তবে নৃত্যশিল্পীরা আমার কাজ সম্পর্কে জানেন—স্বীকার করতে হয়তো একটু কষ্ট হয়, এটাই।
নৃত্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পাচ্ছেন, খবরটি শোনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
অনেকেই আমাকে প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিডিওটি পাঠাতে শুরু করেন। তখনই আমি প্রথম খবরটি জানতে পেরেছি। আমার একদমই বিশ্বাসই হচ্ছিল না।
আপনার এমন প্রাপ্তিতে আপনার মেন্টর লুবনা মরিয়মের কাছ থেকে কী প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?
আমি খবরটি শোনার পর সর্বপ্রথম খালাকেই (লুবনা মরিয়ম) ফোন দিয়ে জানিয়েছি। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন—‘কোনোভাবেই এটা ফিরিয়ে দিবি না, আমার জন্য হলেও এই সম্মাননা গ্রহণ করবি।’ নিজের মেন্টরের কাছ থেকে এমন ভালোবাসার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আমার জন্য আর কি হতে পারে!
নাচ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আমার কাছে নাচ শুধু একটা আর্ট না, ভালো থাকা এবং ভালো রাখার একটা মাধ্যম। নাচ দিয়ে আমি মানুষকে ভালো রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এরকম একটা সম্মাননা প্রাপ্তির পর অবশ্যই আমার অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেছে। পরিকল্পনা হিসেবে বলব, নাচকে শুধু নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাচের মাধ্যমে মানুষদেরকে ভালো লাগার চেষ্টা করা। এটা নিয়েই কাজ করতে চাই। নাচকে সাধারণ মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাই। নাচটাকে মানুষ যেন একটা আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখে। দেশ মার্জিত নাচের অভাব রয়েছে, সেটা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে চাই। যদিও এটা নিয়ে অনেক বছর ধরেই কাজ করছি, আগামীতেও করে যেতে চাই।