গোয়াহরি বিলে ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬

গোয়াহরি বিলে ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

কামরুল হাসান, বিশ্বনাথ
পৌষের হিমেল ভোর। গ্রাম জুড়ে উৎসবের আমেজ। বিলের পাড়ে জড়ো হন অগুণতি মানুষ। হাতে-হাতে মাছ শিকারের হরেক সরঞ্জাম। শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে কেবল বিলে নামার অপেক্ষা। সময় হলেই এক যোগে নামেন বিলে। পলোর ঝপাৎ-ঝপাৎ শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে বিল। নিস্তব্ধ বিল পরিণত হয় মানুষের হাসি, উল্লাস আর উৎসবের মিলনমেলায়। ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের রোশনাই। এভাবেই সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার গোয়াহরি বড়বিলে পালিত হলো শতবর্ষী ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব।
আজ বৃহষ্পতিবার (১ জানুয়ারি) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে এ উৎসব পালিত হয়। গ্রামবাসিদের ভাষ্যমতে, এ উৎসব গোয়াহরি গ্রামের প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, উৎসবকে ঘিরে ভোর থেকেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসি। নির্দিষ্ট সময়ে সবাই পলো, উড়ালজাল, টেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে একত্রিত হন বিলের পাড়ে। তারপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। মুহুর্তেই দেখা মিলে বড় বড় মাছের। কয়েক ঘন্টা চলে মাছ শিকার। ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, ঘনিয়া, বাউশ, শোলসহ নানা প্রজাতির মাছ। টেলা আর ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেয়া হরেক রকম সুস্বাদু মাছ। কারও হাতে বড় বোয়াল কারও ঝুড়িতে ঝলমলে রুই-কাতলা-প্রতিটি ধরাই যেন আলাদা এক উল্লাসের মুহুর্ত। উৎসব উপভোগ করতে বিলের পাড়ে ভিড় করেন উৎসুক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। প্রবাসে থাকা অনেক মানুষ ছুটে আসেন গ্রামে। বছরের পর বছর দূরে থাকা আপনজনদের সঙ্গে দেখা হয়, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন হয় বিলে নামার আনন্দে। মাছ ধরার এ দৃশ্য আর চারপাশের কোলাহলে গোয়াহরি বড়বিল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবভূমিতে।
পলোতে সব চেয়ে বড় বোয়াল ধরতে পেরে যুবক রাজু আহমদ জানান, বড় একটি বোয়াল মাছ নিজের হাতে ধরতে পেরে আমি বেজায় খুশি। সকলেই কম বেশি মাছ পেয়েছেন।
উৎসব দেখতে সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী হাজী মো. তৈমুছ আলী বলেন, বসে পলো বাওয়া উৎসব দেখছি, ভালো লাগছে। গ্রামের লোকজন আনন্দের সহিত মাছ ধরছেন এ দৃশ্য দেখতেই দেশে আসা।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী মো. আবদুল বারী বলেন, উৎসব দেখতেই আমাদের দেশে ফেরা। আমরা পরমানন্দে এটি উপভোগ করি।
আয়োজক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন মেম্বার ‘বিজয়ের কন্ঠ’কে বলেন, ‘আমাদের গ্রামের গোয়াহরি বড়বিলে প্রতিবছর আমরা এ উৎসব পালন করি। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। যুগ যুগ ধরে আমরা তা পালন করে আসছি। আমাদের কাছে আনন্দের পাশাপাশি এটি গর্বের বিষয়ও।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর