ঢাকা ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ
পাথর অধ্যূষিত সিলেটের সীমান্ত জনপদ কোম্পানীগঞ্জ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি কতৃক অবৈধ পাথর লুটপাটে উদ্বুদ্ধ, পাথরবাহী গাড়ী আটক, অতঃপর রমরমা চাঁদাবাজির অডিও রেকর্ড ফাঁসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিরীহ শ্রমিক ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অহরহ চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা ও সামাজিক বয়কটের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে সদ্য বহিস্কৃত ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস,আই কামরুল, উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামের আব্দুল আলীম (৪৫) ও নারাইনপুর গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৫) সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গত ০৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে স্হানীয় টুকের বাজার পয়েন্টে বক্তারা বলেন জানুয়ারিতে কোম্পানীগঞ্জে ১০ লাখ টাকার মামলা বাণিজ্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রতিনিয়ত জিম্মি স্টাইলে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির ঘঠনা ফাঁসে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সচেতন নাগরিক হিসেবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি কান্ডে যে বা যারা জড়িত তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, অডিও রেকর্ডে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ কামরুলের সাথে আব্দুল আলীমের কথোপকথনের একটি অংশে “আমি ২০ হাজার টাকা দিবো ঐ গাড়ীটা দিয়ে দেন, ওসিকে কেউ ২০ হাজার টাকা কেউ দিলে মাতা ঠান্ডা হয়ে যায়। এছাড়া আমাদের মাঝে মধ্যে দিয়েন সমস্যা হবেনা এমনকি পাথর বালু নেয়ারও দাবি শোনা গেছে অডিও রেকর্ডে।
তাছাড়া অনেক অডিও রেকর্ডে পাথরবাহী বিভিন্নজনের গাড়ী আটক করে ফাঁড়ি নিয়ে আসার জন্য হুকুম করেন আবদুল জলিল। অডিও রেকর্ডে এসআই কামরুল (সাসপেন্ড) বলতে শুনা যায় আপনারা(জলিল) যে সময় আলু ঘাট দিয়ে রাত তিনটার পরে লাইন ছাড়ার কথা বলছিলেন তখন লাইনটা ছেড়ে দিলে আজ আমি ৫০ লাখ টাকার মালিক হতাম,আপনারাও শান্তিতে থাকতেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা মূলত চাঁদাবাজির রফাদফা কমবেশি হলেই নিউজ প্রকাশের হুমকি দিয়ে বহাল রাখেন চাঁদাবাজির বিষয়টি ঐ সিন্ডিকেট । এককথায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শাহআরেফীন টিলা, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর রোপওয়েসহ কালাইরাগ বালু লুটপাটের অভিযোগ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বলে বক্তারা অভিযোগ তুলেন। এছাড়া প্রতিবাদ করলে বা দাবী অনুযায়ী চাদা না দিলেই পুলিশ কতৃক নাজেহাল,অতঃপর মামলায় জড়ানো হয় পরিকল্পিতভাবে।
গত জানুয়ারি মাসে এমনই ঘঠনার জন্ম দিয়েছে এই সিন্ডিকেট বাহীনি। বালু লুটের ঘঠনায় জড়িত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিরীহ শ্রমিক গ্রামবাসীদের আসামী করা হয়েছে বিরাট অংকের টাকার বিনিময়ে যা স্হানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে অনেক বক্তারা তুলে ধরেন। সভায় বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মইন উদ্দিন মিলন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এমরান আলী, উপজেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ের সভাপতি কবির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিয়া, যুবদল নেতা আনসার উদ্দিন জিলানী।
ভাইরাল বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে দমনের বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে লোমহর্ষক চাঁদাবাজির বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে
সেজন্য উপজেলা বি এন পির পক্ষ থেকে এ ঘঠনার সুষ্ঠু তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি হাজী মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেন অকল্পনীয় চাঁদাবাজি ঘঠনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিরীহ শ্রমিক ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে টাকা আদায় ঘঠনায় জড়িত যে বা যারা তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক বয়কটসহ আইনের আওতায় নেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান এর সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে বা যারা আমাদের নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম চাঁদাবাজি করেছে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনের আওতায় আনা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন চিহ্নিত চাঁদাবাজির ঘঠনায় জড়িত ব্যক্তি যে বা যারাই হোক তাদের সাথে প্রশাসনের কোনু সম্পর্ক থাকতে পারেনা তাদের বয়কট করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি নজরে এসেছে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা তথা খনিজ সম্পদ (ডিএমডি) মামলায় অন্তর্ভুক্তের বিষয়টি কতৃপক্ষ প্রতি ইঙ্গিত করেন। তদন্তের বিষয়টি কে বা কারা করবেন ভাইরাল চাঁদাবাজির বিষয়টি তা সঠিক ব্যখ্যা তিনি দেননি তবে যে বা যারা জড়িত তাদের বিষয়টি নজরে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host