ঢাকা |
প্রকাশিত: 9:20 PM, October 9, 2026
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার গোঙ্গাদিয়া নোয়াগাও গ্রামের চিহ্নিত চোর, মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী, জমি দখলদার সিন্ডিকেটের নানা অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষকে হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে ড. রাগীব আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মো: ফারুক মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক মিয়া জানান, গোঙ্গাদিয়া নোয়াগাঁও গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ইমরান(২৬) ও মামুন গং সহ অর্থের যোগানদাতা ছালেক আহমদ সহ একটি চোর ও ইয়াবা সিন্ডিকেট এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক মিয়া জানান,বিয়ানীবাজার উপজেলার গোঙ্গাদিয়া নোয়াগাও গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ইমরান(২৬) একজন চিহ্নিত চোর,জমিদখলকারী ও অপহরণকারীও বটে।ইতোমধ্যে চুরি সহ নানাবিধ অপরাধের দরুন এলাকায় একাধিকবার সে ধৃত হয়েছে।তার বিরুদ্ধে থানায় নানা অভিযোগও রয়েছে।কুখ্যাত ইমরানের আরেক সহযোগী একই গ্রামের মামুন মিয়া(২৫)।সেও চিহ্নিত চোর, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ী। এলাকার আশপাশ গ্রামগুলোতে যত ধরনের চুরি হয় সবকিছুর নেতৃত্বে ইমরান ও মামুন।ইমরান ও মামুনের বিশাল চোর সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।তাদের চুরি ও ইয়াবা বিক্রির কারণে আমাদের গ্রামের জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে ।একাধিকবার তারা ধৃত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিচার,শালিস ইত্যাদি হয়।কিন্তু এই চক্র থামে না।উল্টো গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষকে তারা হয়রানি করে ও মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে।
তিনি আরো জানান,চুরি,সন্ত্রাস ও ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে একাট্র হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ ইমরান ও মামুনকে একাধিকবার হাতেনাতে ধরে।ধৃত হওয়ার পর আমাদের সম্মানহানি করতে আমাদের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দেয় ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে।এবং তাদের চোর ও মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অপরাধীদের দিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা,বানোয়াট অপপ্রচারে লিপ্ত থাকে।আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।আমি বা আমাদের পরিবারের লোকজন সবসময় শান্তিশৃঙ্খলায় বিশ্বাসী।গ্রামের মানুষ সহ আমরা সকল অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকি।
ফারুক মিয়া জানান,আমার ভাই ও ভাবী সিলেটের স্বনামধন্য দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। ইমরান,মামুন গং যেদিন গ্রামবাসীর নিকট হাতেনাতে ধৃত হয়,সেদিন আমার ভাই তার কর্মস্থলে ছিলেন। গ্রামে ছিলেন না।এরপরও তাঁকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ভাবে তার মানহানি করতে ইমরান গং মামলায় জড়ানোর অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক মিয়া অভিযোগ করেন,বিগত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিয়ানীবাজারের কুড়ার বাজার ইউনিয়ন এর বর্তমান চেয়ারম্যান তুতিউর রহমানের মামা হাজী গিয়াস উদ্দিনের বাড়ীতে হাতেনাতে ধরা খায় ইমরান ও মামুন।আজ হতে ১৫ দিন আগে তাদের(চোর ইমরান) পাশের বাড়ি নুর মিয়ার পাশের বাড়ী আলতা মিয়ার বাড়ীতে চুরি হয়।এতে ইমরান ও মামুনের সংশ্লিষ্টতা এলাকাবাসী খুঁজে পায়।চুরি করা মালামাল বিক্রি করতে গেলে মুরুব্বি ও যুবকেরা ধরে ফেলে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন,চোর ইমরানের বাবা নিজাম উদ্দিন ছেলের অপকর্মে অতীষ্ঠ হয়ে ইমরানের উপর মামলা করে।আবার ইমরানের বোন সুমী বেগম পিতা নিজাম উদ্দিন ও ভাই ইমরানের বিরুদ্ধে তাদের খারাপ আচরণ ও নির্যাতনের কারণে বিগত ২২সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।এছাড়া মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগে ইমরান কে বিগত ১৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পুলিশ গ্রেফতার করে বিয়ানীবাজারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিগত ৬ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে বিয়ানীবাজারের আব্দুল কাদির জায়গা দখলের অভিযোগ এনে মামুন ও ছালেক আহমদের বিরুদ্ধে জিডি করেন।ছালেক আহমদ ইমরান ও মামুন চোর সিন্ডিকেটের অর্থের যোগানদাতা।ইমরান,মামুন ও ছালেকের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় একাধিক এফআইআর ও নন এফআইআর মামলা আছে।
লিখিত বক্তব্যে ফারুক মিয়া বলেন, ইমরান এবং তার সহযোগীর চুরির অকাট্য প্রমাণ থাকায় বিগত ৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখ রোজ রোববার এলাকার সবাই এক বৈঠকে বসেন।এবং চোর ইমরান ও তার পিতা নিজাম উদ্দিন কে তলব করলে গণপিটুনির ভয়ে ছেলেকে হাজির না করে তার ছেলের চুরির বিষয়ে অকপটে গ্রামবাসীর কাছে মেনে নেয়।তার ছেলেকে গ্রামের এক মুরব্বির বাড়ীতে ৯ অক্টোবর হাজির করার সিদ্ধান্ত হয়।
ফারুক মিয়া বলেন,কুখ্যাত চোর ইমরান কিছু দিন পূর্বে একটি জিম সেন্টার থেকে মোবাইল চুরিতে ধরা পড়ে জনতার হাতে গণপিটুনি খায়।তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত ছালেক আহমদ বেশ কিছুদিন সৌদি আরব ছিলেন। তার মামা হাজী বসির উদ্দিনের সুপার শপে চাকুরীর সময় চুরিতে ধরা পড়েন ছালেক।পরবর্তীতে হাত কাটার ভয়ে বাংলাদেশ চলে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক মিয়া বলেন,প্রায় দুই বছর আগে বৈরাগী বাজার খশি খারপাড়া গ্রামের দুলাল আহমদ ও মারজানা বেগমের পুত্র ফাহিম আহমদ কে(২৫) অপহরণ করে মামুন চক্র।তারা ছেলেটির হাত পা বেঁধে প্রাণে মারার চেষ্টা করে কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। পরে একটি এম্বুলেন্স দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, এটা সর্বজনবিদিত সত্য বিয়ানীবাজার উপজেলার গোঙ্গাদিয়া নোয়াগাও গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ইমরান চিহ্নিত চোর ও রসিম উদ্দিনের ছেলে মামুন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। আর তাদের গডফাদার ছালেক মিয়া।বিগত ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ এই চক্র গ্রামের রফিক উদ্দিনের গরুর ফার্ম থেকে গরু চুরি করেছে।গরু চুরির বিচার অভিযুক্ত ইমরানের বাবা নিজাম উদ্দিনের নিকট দিলে তারা হামলা করে।দা ও লাটি দিয়ে রফিক উদ্দিনের ভাই জিন্নাহ ও মুজাহিদ কে জখম করে।এ ব্যাপারে রফিক উদ্দিন বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক মিয়া ইমরান/মামুন গংদের অপকর্ম জাতির সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান।চিহ্নিত চোর ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ও গ্রামবাসীকে অপরাধীদের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট জোর দাবী জানান।
ফারুক মিয়া।চিহ্নিত চোর,জুলুমবাজ, দাঙ্গাবাজ,অন্যায়কারী ও সমাজের নিচু প্রকৃতির লোকগুলো স্বনামধন্য ব্যক্তিদেরও সম্মানহানি করতে দ্বিধা করছে না উল্লেখ করে বলেন,এজন্য আমরা সিলেট ৬ (বিয়ানীবাজার -গোলাপগঞ্জ) সংসদীয় আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে তাদের এলাকার প্রতি সুনজর দিতে অনুরোধ জানান।একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মান,অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানীমুক্ত করতে জাতির জাগ্রত বিবেক সাংবাদিক বন্ধুদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন,রফিক উদ্দিন, আলতাব আলী প্রমুখ।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host