শিক্ষক ছাড়াই চলছে কলেজ শাখার পাঠদান, নিয়মিত ক্লাসেও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা; দায় কার প্রশ্ন অভিভাবকদের
ছাতকে এইচএসসিতে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, ৩৮ জনে পাস মাত্র ২

প্রকাশিত: 11:38 PM, November 1, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>শিক্ষক ছাড়াই চলছে কলেজ শাখার পাঠদান, নিয়মিত ক্লাসেও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা; দায় কার প্রশ্ন অভিভাবকদের</span> <br/> ছাতকে এইচএসসিতে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, ৩৮ জনে পাস মাত্র ২

মোঃ বদর উদ্দিন, ছাতকঃ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির চিত্র রীতিমতো হতাশাজনক। ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন বাকি ৩৬ জন। পাসের হার মাত্র ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রমের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। কেন এমন ফলাফল, পর্যাপ্ত শিক্ষক ছাড়াই কীভাবে চলছিল পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এসব প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে, কলেজ শাখায় এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই কোনোরকমে কলেজের ক্লাস পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মানবিক বিভাগের প্রধান।

প্রতিষ্ঠানটির মানবিক বিভাগের প্রধান আব্দুল হাই মুহাম্মদ কামাল বলেন, হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবার প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কলেজে যারা ভর্তি হয়েছিল, তাদের অনেকেই অন্য ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। তুলনামূলক কম পয়েন্ট পাওয়া শিক্ষার্থীরাই এখানে ভর্তি হয়েছিল। এ ছাড়া তারা নিয়মিত ক্লাসেও অংশগ্রহণ করেনি।

তিনি আরো বলেন, এবারের ব্যাচ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও আগামী ব্যাচের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, কলেজে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই কোনো রকমে ক্লাস পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির এডহক কমিটির সভাপতি মো. গোলাম মাহমুদ আজম ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে পরীক্ষার পরিবেশ ও নকল প্রতিরোধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও অনেককে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। এবার বিএনপি সরকার এসে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল-কলেজে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এখন আর যে কেউ নকল করতে পারে না। পরীক্ষায় যে প্রশ্ন আসে, যারা উত্তর দিতে পারে তারাই উত্তীর্ণ হয়, আর যারা পারে না তারা উত্তীর্ণ হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েক দিন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে কলেজটির এমন ফলাফলের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। পরে কলেজে শিক্ষক না থাকা ও ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, নতুন কলেজ হয়েছে এবং সেখানে শিক্ষক নেই এমন কোনো তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি একা অনেক দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাঁকে না জানালে বিষয়টি জানা কঠিন। তবে বিষয়টি জানার পর কলেজে শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর