ঢাকা ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে ২১৫টি প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু এই অর্থবছরে মাটির রাস্তার পাশাপাশি নির্ধারিত বরাদ্দ দিয়ে দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস গ্রামীণ স্থায়ী পাকা সড়ক নির্মাণ করে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের কার্যালয় অন্তত ১০০টির বেশি পাকা সড়ক নির্মাণ করে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় সুবিধাভোগীদের প্রশংসায় ভাসছে। মাটির বদলে পুরনো রাস্তাগুলোকে ৭-১২ ফিট প্রস্থ ও ৫০০ থেকে ১০০০ মিটার দৈর্ঘ্যের গ্রামীণ চলাচলের জন্য স্থায়ী পাকা সিসি রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। ২১৫ টি গ্রামীণ সিসি পাকা সড়ক ও মাটির রাস্তা
নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে দুই উপজেলায় প্রায় ৫ কোটি টাকা। এতে উপজেলার লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি দৃশ্যমান হয়েছে স্থানীয় সরকারের উন্নয়নও।
বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৪৬ টাকা এবং টিআর প্রকল্পে ১ কোটি ১৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৪৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এই বরাদ্দে ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৯০টি পাকা ছোট সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে অনেকগুলো কালভার্ট এবং মাটির রাস্তা। এদিকে তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ২৮ লক্ষ ৮৯ হাজার ৭৪৪ টাকায় ১০৭ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অধিকাংশই সিসি পাকা রাস্তা এবং মাটির রাস্তার কাজ চলছে বাকি বরাদ্দ মসজিদ-মন্দির উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ সড়কে মাটির কাজ হয়েছে। এবারও মাটির কাজের জন্য তারা প্রকল্প জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সড়কগুলো পরিদর্শন করে সামান্য মাটির কাজ করে এই বরাদ্দে পাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এতে বিস্মিত হন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা। পরে অধিকাংশ সড়কের প্রকল্প গ্রহণ করে সিসি রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে প্রায় সড়ক ও মাটির প্রায় ৮০ ভাগ সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পাকা হয়ে যাবে বলে জানান তারা।
এই সড়কগুলো স্থানীয় বাজার, গ্রামীণ রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় লিংক সড়ক হিসেবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মানুষজন ব্যবহার করছেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী বলেন, স্থানীয় সরকার আমাদেরকে অল্প বাজেট দেয়। এই বাজেটে অন্যান্য সময় এমপিদের লোকজনের চোখ পড়ে। যার ফলে বাজেট নয়ছয় হয়। কিন্তু এবার অল্প বাজেট দিয়েও আমরা এলাকায় একাধিক পাকা সড়ক করেছি। যদি বাজেট বাড়ানো হয় এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চাপ দেওয়া না হয় তাহলে স্থানীয় সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যাবে।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো আলী হায়দার বলেন, আমার ইউনিয়ন বড়। কিন্তু বরাদ্দ কম। এই কম বরাদ্দেও এবার বেশ কয়েকটি পাকা সড়ক করেছি। যা দিয়ে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং এর সুবিধা টানা কয়েক বছর ভোগ করতে পারবেন। স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে স্বাধীনতা দিয়ে কাজ করালে বদলে যাবে গ্রাম বাংলা-বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আমরা তাহিরপুর এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২১৫ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। এর মধ্যে ৬৫ ভাগ বরাদ্দই গ্রামীণ পাকা সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এতে লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও স্থায়ী ও টেকসই হবে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আব্দুল মতিন খান বলেন, সুনামগঞ্জ বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল। প্রতি বছর মাটির রাস্তা তৈরি হয় আবার ধসে যায়। তাই আমরা এবারের বরাদ্দে স্থায়ী কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমরা চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরকে বলেছিলাম মাটির কাজের বদলে তারা যেন পাকা সড়কের প্রকল্প দেন। তারাও সহযোগিতা করেছেন। আমরা সবাই মিলে বরাদ্দের বেশিএরভাগই পাকা সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের মান যাতে ঠিক থাকে এবং কোনও প্রকার দুর্নীতি না হয় সেজন্য আমার কঠোর নজরদারি ছিল। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় সরকারের কাজগুলো দৃশ্যমান হবে। মানুষও উপকৃত হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host