ঢাকা ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
তৌফিকুর রহমান তাহের, সুনামগঞ্জ
দীর্ঘদিন যাবৎ ধরে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির মধ্যে থাকা সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই আসনে আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও তাঁর পরিবারের প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তের ভোট বর্জনের আহ্বানে আসনটিতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক শূন্যতা। সেই শূন্যতা পূরণে এখন সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আসনে আওয়ামী লীগঘরানার প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই মূল লড়াই। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন পেতে বিএনপি ও জামায়াতÑউভয় পক্ষই মাঠে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
(মঙ্গলবার) শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের শাসখাই বাজারে জনসভা করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। পরদিন একই স্থানে সমাবেশ করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির। দুটি সমাবেশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক অনুসারীদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি মূলত ‘সুরঞ্জিতের ভোটব্যাংক’ দখলের প্রতিযোগিতা।
বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে যাঁরা আগে নাছির চৌধুরীকে ভোট দেননি, এবার তাঁরা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন পরিচিত নেতার অংশগ্রহণ সেই দাবিকে জোরদার করছে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনির নিজেকে সামাজিক ও আইনি সহায়তাকারী হিসেবে তুলে ধরছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে থাকার বিষয়টি তিনি প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সমাবেশেও কয়েকজন সংখ্যালঘু নেতার উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আসনের সর্বশেষ সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্ত এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে প্রায় ২০ শতাংশ ভাসমান ভোটার ও আওয়ামী ঘরানার ভোটাররাই এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে ভোটের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নেমে আসে ৪৫.৯১ শতাংশে। এবারের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকলেও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ভোটের হারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি সিপিবির প্রার্থী নিরঞ্জন দাস খোকন ‘কাস্তে’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। তিনি বামপন্থি ও প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সব মিলিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের উত্তরাধিকার এবং আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করে দিরাই-শাল্লায় এখন তীব্র নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলেই স্পষ্ট হবে এই শূন্যতার দখল কার হাতে যাচ্ছে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host