নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার

সুয়েব রানা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদর দপ্তর বিজিবির নির্দেশনা অনুযায়ী সরাইল রিজিয়ন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে নির্বাচনকালীন সময় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি, মোতায়েন পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিং করেন কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন, পিএসসি, সেক্টর কমান্ডার, সেক্টর সদর দপ্তর সিলেট। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ নাজমুল হকসহ অন্যান্য বিজিবি সদস্যরা।

বিজিবি জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন প্রায় ১২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট সেক্টরের অধীনে থাকা ৩০২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা। এ সময়ে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ যেকোনো সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সীমান্তে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি সদস্যরা।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি থেকে সরাইল রিজিয়ন পূর্ণমাত্রায় মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮১ রিজিয়ন সদর দপ্তরের অধীনস্থ ৪টি সেক্টর ও ১৩টি ব্যাটালিয়ন ১৭টি জেলার ৯২টি সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করবে। এতে ৩৩০ প্লাটুনে মোট ৬৬০০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে।

সিলেট বিভাগে সিলেট সেক্টর এবং শ্রীমঙ্গল সেক্টরের আওতায় সর্বমোট ৯০টি প্লাটুনে প্রায় ২১০০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সিলেট সেক্টরের অধীনে বিজিবির সদস্যরা দুইটি জেলার ১০টি আসনে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ছয়টি উপজেলা-সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জে এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। এছাড়া সীমান্তবর্তী আরও পাঁচটি উপজেলায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে এবং অন্য ১২টি উপজেলায় বিজিবি অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে নির্বাচনী এলাকায় বিজিবির কেএনাইন ইউনিটের চারটি প্রশিক্ষিত ডগ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা উপজেলা ভিত্তিক বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়।

বিজিবি আরও জানায়, সরাইল রিজিয়ন থেকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি সদস্যকে আগেই রায়োট কন্ট্রোল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মহড়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে সদস্যরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ মাঠে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত, আত্মবিশ্বাসী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় কাজ করতে সক্ষম। ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে রিজিয়নের আওতাধীন ৯২টি আসনেই বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে এবং উপজেলা ভেদে প্রতিটি উপজেলায় ২ থেকে ৪ প্লাটুন পর্যন্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোনের মাধ্যমে সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবিতে নতুনভাবে সংযোজিত ৬৫৪টি নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এপিসিসহ বিজিবির কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) সর্বদা প্রস্তুত থাকবে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে বিজিবি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের ভোটাধিকার, আর সেই অধিকার নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে সবার সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হলে সেটিই হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোর পেশাদার ভূমিকা জনগণের আস্থাকে আরও দৃঢ় করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর