‘হুমকির মুখে পরিবেশ’
মহাসড়কের ২৫ কোটি টাকার গাছ সাড়ে ১৩ লাখে বিক্রি

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>‘হুমকির মুখে পরিবেশ’</span> <br/> মহাসড়কের ২৫ কোটি টাকার গাছ সাড়ে ১৩ লাখে বিক্রি

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশের শতবছর বয়সী বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আটশত দেশীয় গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। একদিকে কিছু সংখ্যক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে গিয়ে উজাড় হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। অন্যদিকে গাছ বাঁচাতে বন বিভাগের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ মহাসড়কের ঠিকাদার মো শহীদ মিয়া ২০১৯ সালের টেন্ডারের কাগজ দেখিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভমভমি,ভাতগাও,কলকলি,খাসিলা হতে মজিদপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কর্তন করে নিয়ে যান ঐ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। গাছ কর্তনের ঘটনায় এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে ছাতক বন বিভাগের এক কর্মচারী গাছ কর্তনের জন্য নিষেধ করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা অমান্য করে গাছ বিক্রি করা অবস্থায় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তন করা গাছ জব্দ করে স্থানীয়দের জিম্মায় রেখে যান। সড়ক ও জনপদ বিভাগ ৫ কোটি টাকার গাছ ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
খাসিলা গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঠিকাদার শহীদ মিয়া ২০১৯ সালের সড়ক ও জনপথ মন্ত্রনালয়ের ভুয়া টেন্ডারের কাগজ দেখিয়ে ২০১৯ সালেই সাতশত গাছের স্থলে প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কর্তন করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঐ পুরাতন কাগজ দেখিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আরো ৭০০/৮০০ ছোট-বড় গাছ কর্তন করে শান্তিগঞ্জের আক্তাপাড়া বাজারের স-মিল ব্যবসায়ির কাছে বিক্রি করা হয়।
অপরদিকে ওই চক্রটি ২৪ জানুয়ারী ২০২৪ সালের বন বিভাগের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির কাগজ দেখিয়ে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পিটিআই স্কুলের সামন হতে ইকবাল নগর পর্যন্ত প্রথম লটে ২০৪ টি,দ্বিতীয় লটে ৪৭৬ টি ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনের টেন্ডার পান বন ও পরিবেশ মন্ত্রালয় থেকে। শতবছর বয়সী একেকটি গাছের মূল্য সরকার নির্ধারণ করেছে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু ৬৮০ টি গাছের বর্তমান বাজার মূল্য হবে ২৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। ১ম ও ২য় লট অনুসারে ৬৮০ টি গাছের স্থলে প্রায় ৮শত গাছ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তন করেছে। তার মধ্যে শত বছরবর্ষী একেকটি গাছের মূল্য লাখ টাকা,একশত গাছের মূল্য ১০ কোটি টাকা,পঞ্চাশ বছর বয়সী একেকটি গাছের মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা ৩শত গাছের মূল্য ১৫ কোটি টাকা, বিশ হাজার করে ৪শত গাছের মূল্য ৮ লক্ষ টাকা হবে। মোট ২৫ কোটি ৮ লক্ষ টাকার গাছ।
ওয়েজখালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের প্রথম দিকে নার্সারি কর্তৃপক্ষ পিটিআই এর সামন থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ৬৮০ টি গাছ মার্কিং করে কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা অমান্য করে অবৈধভাবে হাছন তোরণ পর্যন্ত গাছ কর্তন করে আরো দেড় শতাদিক গাছ অতিরিক্ত কর্তন করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মূল্যবান এসব গাছ ২০ কোটি টাকার গাছ সাড় ১৩ লক্ষ টাকায় নিয়ে যাচ্ছে।
জলিলপুর এলাকার বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, পিটিআই থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ। একসময় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীরা শীতল ছায়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ বছর এই সড়কের প্রায় ৮ শতাদিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ১০ কিলোমিটার সড়কেও। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার মূল্যবান গাছের মধ্যে এ বছর অন্তত এক হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলা হবে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সড়কের পাশে হেলে পড়া বা মরে যাওয়া গাছগুলো কতিপয় ব্যক্তিরা রাতের আধারে নিয়ে যায় ‘স’ মিলে। গাছ বিক্রি করার সাথে সাথে অসাধু মিল মালিকেরা কাঠ তৈরি করে ফেলেন। এটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেননি।
ইকবালনগর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, সড়কের দুই পাশের সবুজ চিত্র আর থাকবে না। শীতল হাওয়ায় চলাচলের যে স্বস্তি ছিল, তা হারিয়ে যাবে। এই সৌন্দর্য আগামী চল্লিশ বছরেও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
শহরের সিএনজি চালক শাহ জামাল বলেন, গরমের দিনে গাছের নিচে গাড়ি আসলে যাত্রীরা স্বস্তির নি:স্বাস ছেড়ে বলেন, গাছের নিচে গাড়ি আসলেই বেশ ঠান্ডা লাগে। আহ্ কী সুন্দর সারিবদ্ধ দৃশ্য।
শিমুল এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার ঠিকাদার আব্দুর রহিম মিন্টু বলেন, নির্মাণাধীন ফোরলেন রাস্তার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রানালয় টেন্ডার দিয়েছেন। আমি সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছি। ৬৮০ ছোট বড় গাছ কর্তন করছি। সামাজিক বনায়ন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে গাছ কর্তন করছি। তবে অতিরিক্ত ছোট ছোট কিছু গাছ কাটা হয়েছে রাস্তার সুবিধার্তে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, সড়কের দু’পাশের গাছ কেটে ফোরলেন রাস্তার উন্নয়ন এটি টেকসই উন্নয়ন নয়। পরিবেশ বজায় রেখে যে উন্নয়ন সেটি টেকসই উন্নয়ন। যেভাবে গাছ কেটে উন্নয়ন করছে আমি সে কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি রাস্তা সম্প্রসারণ করলে পরিবেশ বজায় রেখে করতে হবে। একটি গাছ কাটার আগে পাঁচ টি গাছ লাগাতে হয়। গাছ রেখে যেন রাস্তার উন্নয়ন হয় এই দাবি জানাই। সুনামগঞ্জের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠনের সেক্রেটারী ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, দোয়ারা ও সাচনা সড়কের দুই পাশের মূল্যবান গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক গাছ মরে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গাছ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এদিকে ফোরলেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার উভয় পাশের শতবর্ষী গাছ গুলো কেটে সবুজ বনায়ন উজাড় করে ফেলছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গাছ কর্তনের বিষয়ে আমার কাছে কোন ধরনের তথ্য নেই। সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা বলতে পারবেন।
সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, বিগত ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারী মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার আব্দুর রহিম মিন্টু বন ও পরিবেশ মন্ত্রালয়ের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬৮০ টি গাছের সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হওয়ার পর গাছ কর্তন করছেন।
‘হুমকির মুখে পরিবেশ’
মহাসড়কের ২৫ কোটি টাকার
গাছ সাড়ে ১৩ লাখে বিক্রি
আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশের শতবছর বয়সী বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আটশত দেশীয় গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
একদিকে কিছু সংখ্যক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে গিয়ে উজাড় হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। অন্যদিকে গাছ বাঁচাতে বন বিভাগের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ মহাসড়কের ঠিকাদার মো শহীদ মিয়া ২০১৯ সালের টেন্ডারের কাগজ দেখিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভমভমি,ভাতগাও,কলকলি,খাসিলা হতে মজিদপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কর্তন করে নিয়ে যান ঐ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। গাছ কর্তনের ঘটনায় এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে ছাতক বন বিভাগের এক কর্মচারী গাছ কর্তনের জন্য নিষেধ করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা অমান্য করে গাছ বিক্রি করা অবস্থায় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তন করা গাছ জব্দ করে স্থানীয়দের জিম্মায় রেখে যান। সড়ক ও জনপদ বিভাগ ৫ কোটি টাকার গাছ ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
খাসিলা গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঠিকাদার শহীদ মিয়া ২০১৯ সালের সড়ক ও জনপথ মন্ত্রনালয়ের ভুয়া টেন্ডারের কাগজ দেখিয়ে ২০১৯ সালেই সাতশত গাছের স্থলে প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কর্তন করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঐ পুরাতন কাগজ দেখিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে আরো ৭০০/৮০০ ছোট-বড় গাছ কর্তন করে শান্তিগঞ্জের আক্তাপাড়া বাজারের স-মিল ব্যবসায়ির কাছে বিক্রি করা হয়।
অপরদিকে ওই চক্রটি ২৪ জানুয়ারী ২০২৪ সালের বন বিভাগের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির কাগজ দেখিয়ে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পিটিআই স্কুলের সামন হতে ইকবাল নগর পর্যন্ত প্রথম লটে ২০৪ টি,দ্বিতীয় লটে ৪৭৬ টি ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনের টেন্ডার পান বন ও পরিবেশ মন্ত্রালয় থেকে। শতবছর বয়সী একেকটি গাছের মূল্য সরকার নির্ধারণ করেছে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু ৬৮০ টি গাছের বর্তমান বাজার মূল্য হবে ২৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। ১ম ও ২য় লট অনুসারে ৬৮০ টি গাছের স্থলে প্রায় ৮শত গাছ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তন করেছে। তার মধ্যে শত বছরবর্ষী একেকটি গাছের মূল্য লাখ টাকা,একশত গাছের মূল্য ১০ কোটি টাকা,পঞ্চাশ বছর বয়সী একেকটি গাছের মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা ৩শত গাছের মূল্য ১৫ কোটি টাকা, বিশ হাজার করে ৪শত গাছের মূল্য ৮ লক্ষ টাকা হবে। মোট ২৫ কোটি ৮ লক্ষ টাকার গাছ।
ওয়েজখালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের প্রথম দিকে নার্সারি কর্তৃপক্ষ পিটিআই এর সামন থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ৬৮০ টি গাছ মার্কিং করে কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা অমান্য করে অবৈধভাবে হাছন তোরণ পর্যন্ত গাছ কর্তন করে আরো দেড় শতাদিক গাছ অতিরিক্ত কর্তন করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মূল্যবান এসব গাছ ২০ কোটি টাকার গাছ সাড় ১৩ লক্ষ টাকায় নিয়ে যাচ্ছে।
জলিলপুর এলাকার বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, পিটিআই থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ। একসময় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীরা শীতল ছায়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ বছর এই সড়কের প্রায় ৮ শতাদিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ১০ কিলোমিটার সড়কেও। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার মূল্যবান গাছের মধ্যে এ বছর অন্তত এক হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলা হবে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, সড়কের পাশে হেলে পড়া বা মরে যাওয়া গাছগুলো কতিপয় ব্যক্তিরা রাতের আধারে নিয়ে যায় ‘স’ মিলে। গাছ বিক্রি করার সাথে সাথে অসাধু মিল মালিকেরা কাঠ তৈরি করে ফেলেন। এটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেননি।
ইকবালনগর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, সড়কের দুই পাশের সবুজ চিত্র আর থাকবে না। শীতল হাওয়ায় চলাচলের যে স্বস্তি ছিল, তা হারিয়ে যাবে। এই সৌন্দর্য আগামী চল্লিশ বছরেও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
শহরের সিএনজি চালক শাহ জামাল বলেন, গরমের দিনে গাছের নিচে গাড়ি আসলে যাত্রীরা স্বস্তির নি:স্বাস ছেড়ে বলেন, গাছের নিচে গাড়ি আসলেই বেশ ঠান্ডা লাগে। আহ্ কী সুন্দর সারিবদ্ধ দৃশ্য।
শিমুল এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার ঠিকাদার আব্দুর রহিম মিন্টু বলেন, নির্মাণাধীন ফোরলেন রাস্তার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রানালয় টেন্ডার দিয়েছেন। আমি সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছি। ৬৮০ ছোট বড় গাছ কর্তন করছি। সামাজিক বনায়ন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে গাছ কর্তন করছি। তবে অতিরিক্ত ছোট ছোট কিছু গাছ কাটা হয়েছে রাস্তার সুবিধার্তে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, সড়কের দু’পাশের গাছ কেটে ফোরলেন রাস্তার উন্নয়ন এটি টেকসই উন্নয়ন নয়। পরিবেশ বজায় রেখে যে উন্নয়ন সেটি টেকসই উন্নয়ন। যেভাবে গাছ কেটে উন্নয়ন করছে আমি সে কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি রাস্তা সম্প্রসারণ করলে পরিবেশ বজায় রেখে করতে হবে। একটি গাছ কাটার আগে পাঁচ টি গাছ লাগাতে হয়। গাছ রেখে যেন রাস্তার উন্নয়ন হয় এই দাবি জানাই। সুনামগঞ্জের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠনের সেক্রেটারী ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, দোয়ারা ও সাচনা সড়কের দুই পাশের মূল্যবান গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক গাছ মরে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গাছ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এদিকে ফোরলেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার উভয় পাশের শতবর্ষী গাছ গুলো কেটে সবুজ বনায়ন উজাড় করে ফেলছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গাছ কর্তনের বিষয়ে আমার কাছে কোন ধরনের তথ্য নেই। সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা বলতে পারবেন।
সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, বিগত ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারী মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার আব্দুর রহিম মিন্টু বন ও পরিবেশ মন্ত্রালয়ের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬৮০ টি গাছের সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হওয়ার পর গাছ কর্তন করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর