যথাসময়ে মিলছে না সেবা
চিকিৎসকদের অবহেলায় গাইনি বিভাগে সেবাগ্রাহীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>যথাসময়ে মিলছে না সেবা</span> <br/> চিকিৎসকদের অবহেলায় গাইনি বিভাগে সেবাগ্রাহীদের ভোগান্তি

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ও ইনডোরে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইনডোরে একজন সিনিয়র সার্জন ও একজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই সময়ের মধ্যে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কর্মস্থলে পাওয়া যায় না। শনিবার ৭ মার্চ দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সিনিয়র সার্জন ডা লিপিকা দাস কর্মস্থলে নেই। তাকে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার প্রাইভেট চেম্বার আনিসা হেলথকেয়ারে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয় তিনি দুপুর ১টার আগেই সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা পর্যন্ত তার হাসপাতালেই থাকার কথা ছিল। পরে তাকে ফোনে এক রোগীর বিষয়ে জানানো হলে তিনি জানান যে আবাসিক সার্জন বিষয়টি দেখে দেবেন।
একইভাবে ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে না থাকার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি থাকার কথা থাকলেও শনিবার দুপুর ১টায় তাকে ফোন করা হলে তিনি জানান যে তিনি বাসায় আছেন। এ সময় দায়িত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকের ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং অশোভন আচরণ করেন। তিনি বলেন যে তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে বাধ্য নন এবং তাকে কেন খোঁজা হচ্ছে তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে গাইনি ওয়ার্ডে দুপুর ১২টার পর কোনো রোগী ভর্তি হলে তারা তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা পান না। অনেক ক্ষেত্রে পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যা জরুরি রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অন্য একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা এই অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকদের অবহেলার বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর