ঢাকা |
প্রকাশিত: 1:38 PM, October 20, 2026
ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। ব্যক্তিজীবন থেকে পেশাগত জীবন—বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে আলোচনায় এসেছেন তিনি। সম্প্রতি তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ছবি ও নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। গতকাল একটি অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনসহ নানা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
তার দাবি, সামাজিক মাধ্যমে নোংরা কর্মকাণ্ড শুধু তাকে বিব্রত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং অন্য নারীদের মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করতে পারে। তাই এ ধরনের সাইবার হয়রানির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পরীমণি বলেন, ‘আমি এটা মেনে নিয়েছি যে, সারা জীবন আমার ঝামেলা হবে, আর ঝামেলা নিয়েই চলে যেতে হবে। তবে কিছুদিন আগের বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। যেকোনো মেয়ে কিন্তু এভাবে নিতে পারবে না। আমি তিন-চার দিন বিষয়টি গায়ে মাখিনি। কিন্তু যখন দেখলাম, এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, বিভিন্ন ছবি নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে, তখন আর চুপ থাকা যায় না।’
পরীমণির ভাষ্য, ‘যে মেয়েটাকে জেনে-বুঝে খোঁচানো হচ্ছে, তার সম্পর্কে মিথ্যা জেনেও এসব করা হচ্ছে। একজন সাধারণ মেয়ে হলে সে হয়তো এটা নিতে পারবে না। এমন অনেক ঘটনা আছে, যেখানে মানুষ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। এগুলো নিয়ে এখনই সোচ্চার না হলে কখন হবেন? আমার মনে হয়, সবাইকে যার যার জায়গা থেকে অন্যদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
পরীমণি বলেন, ‘আমি একা একা সবকিছু করতে পারব না। এ জন্য আপনাদের সবার সমর্থন লাগবে। আইনব্যবস্থা এ ধরনের বিষয়ে খুব দুর্বল বলে আমার মনে হয়েছে। এদিকে আরও জোর দিতে হবে, তা না হলে কোনো উপায় নেই।’
কথোপকথনে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার আক্ষেপও প্রকাশ করেন পরীমণি। তাঁর মতে, কোনো শিল্পী বিপদে পড়লে অন্য শিল্পীদের তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত। সহকর্মী হিসেবে অন্যের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
পরীমণি বলেন, ‘মাহি যখন গ্রেপ্তার হলেন, এরপর নুসরাত ফারিয়া যখন গ্রেপ্তার হলেন, তখন প্রথম কথাগুলো আমিই বলেছিলাম। পরে কেউ কেউ কথা বলেছেন, আবার অনেকে বলেননি। আমার মনে হয়েছে, সহকর্মী হিসেবে তাঁদের পাশে থাকা দরকার, তাই আমি থেকেছি। কিন্তু আমি বিপদে পড়লে একইভাবে কেউ পাশে থাকেন না। আমার পাশে কে থাকল, সেটা নিয়ে অবশ্য আমার খুব একটা ভাবনা নেই। কিন্তু সহকর্মীদের একে অন্যের পাশে থাকা উচিত। তা না হলে আমরা কীভাবে শিল্পীদের ঐক্যের কথা বলব?’
নিজের ভক্ত ও অনুসারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পরীমণি। তাঁর মতে, সত্য কথা বলার সাহসকে যখন মানুষ সমর্থন করেন, তখন আরও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থানে থাকা যায়। তবে একই সঙ্গে ধৈর্য ধরার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পরীমণি বলেন, ‘ধৈর্য ধরা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সব সময় ধৈর্য ধরে থাকাও যায় না। আমি চেষ্টা করি বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে, নিজের কাজে মনোযোগ দিতে। কিন্তু কতক্ষণ এড়িয়ে যাব? আসলে কীভাবে এর সমাধান হবে, সেটাও বুঝতে পারছি না।’
আসন্ন জন্মদিন নিয়েও কথা বলেছেন পরীমণি। তিনি জানান, আগে কখনো জন্মদিন উদ্যাপন নিয়ে তেমন ভাবেননি। বিশেষ করে নানুভাইকে হারানোর পর তাঁকে ছাড়া কেক কাটা কিংবা সবাইকে নিয়ে আনন্দ করার বিষয়টি ভাবতেই পারেননি। তবে এবার কাছের মানুষ ও সহকর্মীদের নিয়ে সন্ধ্যায় কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছা রয়েছে তার।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host