মাঠকর্মীদের প্যাকেট, ঊর্ধ্বতনদের উন্নত খাবার
ওসমানীনগরে ন্যাশনাল লাইফের অনুষ্ঠানে খাবার বৈষম্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: 12:46 AM, October 21, 2026

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>মাঠকর্মীদের প্যাকেট, ঊর্ধ্বতনদের উন্নত খাবার</span> <br/> ওসমানীনগরে ন্যাশনাল লাইফের অনুষ্ঠানে খাবার বৈষম্যের অভিযোগ

ওসমানীনগর প্রতিনিধিঃ

সিলেটের ওসমানীনগরে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উন্নয়ন সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাঠকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দিন-রাত পরিশ্রম করে ব্যবসা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখলেও তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুপুরের খাবার পরিবেশন নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ।

অনুষ্ঠান শেষে মাঠকর্মীদের হাতে খাবারের প্যাকেট এবং অন্যদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টেবিলে বসে খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে খাবার পরিবেশনে বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠকর্মীদের অভিযোগ, তাদের জন্য তুলনামূলক নিম্নমানের ছানা পোলাও পরিবেশন করা হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ছিল গরু ও মুরগির মাংসসহ বিভিন্ন পদের খাবার।

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তাজপুরে প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ, উন্নয়ন সভা এবং পুরস্কার ও উপহার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সিলেট এরিয়া ম্যানেজার এ এস এম সাজ্জাদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আব্দুল মমিন, গোলায়ালাবাজার জুন প্রধান এবং তাজপুরের সহকারী জোন প্রধান সুমা বেগম।

শেরপুর সাংগঠনিক অফিসের এজিএম আলা মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শামীমা বেগম, রিমা বেগম, নাজমা, শাহেনা, মিনা বেগম, সাজনা বেগম, আনহার মিয়া, রেহানা বেগম, শাহানা বেগম ও জাফর কুমার দেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আনহার মিয়া।
এ সময় কর্মক্ষেত্রে সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন গ্রাহক ও কর্মকর্তার মধ্যে পুরস্কার ও উপহারও বিতরণ করা হয়।

তবে অনুষ্ঠানের খাবার পরিবেশনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারণে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দিন-রাত পরিশ্রম করেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে বীমা সংগ্রহ, নতুন গ্রাহক তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের সুযোগ-সুবিধা ও শ্রমের মূল্যায়নে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

ক্ষুব্ধ কয়েকজন মাঠকর্মীর ভাষ্য, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সভায় অংশ নেওয়ার পর দুপুরের খাবার হিসেবেও তারা প্রত্যাশিত মানের খাবার পাননি। তাদের অভিযোগ, মাঠকর্মীদের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য টেবিলে বসে উন্নত খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

এমন আয়োজনের মধ্যেও কর্মীদের মধ্যে খাবার পরিবেশনে এই পার্থক্য কেন—সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা বা নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না; মাঠপর্যায়ের কর্মীদের শ্রম, সময় ও নিষ্ঠাও সেই সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে মাঠকর্মীদের হাতে খাবারের প্যাকেট এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টেবিলে বসে খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

তবে মাঠকর্মীদের অভিযোগ, খাবারের এই ভিন্ন ব্যবস্থা তাদের মধ্যে অবমূল্যায়িত হওয়ার অনুভূতি তৈরি করেছে। তাদের প্রশ্ন, একই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করা কর্মীদের জন্য একটি অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশন ও আপ্যায়নের ক্ষেত্রে এমন পার্থক্য থাকা কতটা যৌক্তিক?

তারা বলেন, কর্মীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণে সর্বোচ্চ শ্রম ও নিষ্ঠা প্রত্যাশা করা হলে তাদের প্রতিও সম্মানজনক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মাঠকর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট এরিয়া ম্যানেজার এ এস এম সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে খাবার পরিবেশনে পার্থক্যের অভিযোগ এবং কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর