প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে অপহরণ ও গুমের শিকার ব্রিটিশ নাগরিক মফজ্জুল আলীর দরখাস্ত পেশ

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে অপহরণ ও গুমের শিকার ব্রিটিশ নাগরিক মফজ্জুল আলীর দরখাস্ত পেশ

অপহরণ ও গুমের শিকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্রিটিশ নাগরিক মোঃ মফজ্জুল আলী তার দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কার্যক্রম যাতে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয়, সেজন্য প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনে তিনি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু, ন্যায়সংগত এবং আইনানুগভাবে পরিচালনার অনুরোধ করেন। গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে তিনি পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবরে পৃথকভাবে দেয়া দরখাস্তে তিনি এ আবেদন জানান। প্রতিপক্ষের হাতে পুনরায় অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশংকায় সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলে তার নিকটাত্মীয় আজহার উদ্দিন সাকিব প্রবাসী মফজ্জুল আলীর পক্ষে দরখাস্তগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের দপ্তরে পেশ করেন।
পেশকৃত দরখাস্ত এবং মামলা সুত্রে জানা গেছে, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চন্ডিতিয়র নিবাসী মদরিছ আলীর পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোঃ মফজ্জুল আলী একজন ব্রিটিশ সিটিজেন। সহোদর বড় ভাই মকবুল আলীর সাথে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তার পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে লন্ডনেও তাদের অনেক দেন-দরবারসহ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যর্থ হয়ে বড় ভাই মকবুল আলী ছোট ভাই মফজ্জুল আলীকে সময়মতো উচিত শিক্ষা দেবেন বলে হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন।
গত ২৯ জানুয়ারি মফজ্জুল আলী বৃদ্ধ মাকে নিয়ে দেশে আসার খবর পেয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি বড় ভাই মকবুল আলীও দেশে এসে পৈতৃক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সালিশে নিস্পত্তির চেষ্টা করলেও মকবুল আলীর অনঢ় অবস্থানের কারণে তা হয়নি। এমতাবস্থায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় জামে মসজিদের আঙ্গিনা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৬/৭ জন যুবক আকস্মিক মফজ্জুল আলীকে অপহরণ করে চোখ বেঁেধ একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় ঘন্টাখানেক পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার পকেট থেকে নগদ প্রায় ৫৯ হাজার টাকা, একটি দামী মোবাইল ফোন ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতিয়ে নেয়া হয়। পরে তার চোখ খুলে দিলে তিনি নিজেকে একটি কক্ষের মেঝেতে দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন অপরিচিত যুবক তাকে ইয়াবা, হেরোইন, মদ ইত্যাদি নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতে দেয়। মাদকদ্রব্য গ্রহণে তিনি অস্বীকৃতি জানালে বড় ভাই মকবুল আলীর উপস্থিতি ও নির্দেশে অন্যরা তাকে অমানবিক মারপিট করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে নানারকমের ইনজেকশন পুশ করতে থাকে। মারপিট ও ইনজেকশনে পুশকৃত ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ আহত অবস্থায় মফজ্জুল আলীকে গুম দশা থেকে উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, সিলেট নগরির আম্বরখানা এলাকায় জনৈক বাবুল আহমদের মালিকানাধীন রেজিস্ট্রেশনবিহীন প্রত্যাশা মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও সমন্বিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কেন্দ্র নামক একটি ভূঁয়া প্রতিষ্ঠানে তাকে গুম করে রাখা হয়েছিল। এ ব্যাপারে পুলিশ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক-কর্মীসহ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে মকবুল আলীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ মফজ্জুল আলীকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়। অতঃপর মফজ্জুল আলী বাদী হয়ে থানায় একটি অপহরণ ও গুমের মামলা (মামলা নং-১০(২৩), তারিখঃ ২৪.০২.২৬) দায়ের করেন। মামলায় মকবুল আলী, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে স্বত্বাধিকারী বাবুল আহমদসহ ওই প্রতিষ্ঠানের ৪ জন কর্মী এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে বিবাদী করা হয়। পরে মারাত্মক আহত ও অসুস্থ অবস্থায় তাকে আত্মীয়-স্বজনের হাতে তুলে দেয়া হয়।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার মকবুল আলী জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করায় পুলিশ মামলার ১নং অভিযুক্ত হিসেবে তাকে আদালতে চালান দেয়। ৪ (চার) দিন হাজতবাসের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাজতে থাকা মকবুল আলীসহ অন্য অভিযুক্তরা আদালত থেকে জামিন লাভ করে। জামিন পেয়ে ১নং অভিযুক্ত বাড়িতে এসে বাদীকে প্রাণে হত্যাসহ নানা রকমের হুমকী-ধমকি দিতে থাকলে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মফজ্জুল আলী আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে পালিয়ে অবস্থান করতে থাকেন। শেষপর্যন্ত অপারগ হয়ে প্রাণের ভয়ে অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ মাতাকে একাকি বাড়িতে রেখে তিনি গত ১০ মার্চ যুক্তরাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটি বর্তমানে ওসমানীনগর থানার পুলিশ তদন্ত করছে। বাদীর অনুপস্থিতিতে মামলার গতি-প্রকৃতি কোনদিকে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নয়। তিনি আশংকা করছেন অর্থবিত্তে ও দাপুটে প্রভাবশালী ১ ও ২নং অভিযুক্ত যোগসাজশ করে স্বাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে মামলার তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে। এই আশংকায় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি, ন্যায়সংগত ও আইনানুগ নির্দেশনা কামনা করেছেন। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে আসতে ইচ্ছুক বলেও আবেদনে জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর