ছাতকে নবীনবরণ নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ

প্রকাশিত: 9:33 PM, September 24, 2026

ছাতকে নবীনবরণ নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ

লুৎফুর রহমান শাওনঃ

সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেনীর নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রশিবির কর্তৃক উপজেলা প্রেসক্লাবের ৩ গণমাধ্যম কর্মী হেনাস্থার স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের জাকির হোসেন লাহিনসহ ৩ জন এবং কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী মাহফুজ আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ ও লায়েক আহমদকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এবিষয়ে উভয় পক্ষের পরস্পার বিরুধী বক্তব্য দিয়েছেন। এ ঘটনার পর গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেনীর নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিলো। দুপুরে নবাগত কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে গ্রহণকালে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো.মাহবুব আহমদের সাথে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি মো.জুনায়েদ আহমেদের সাথে কলেজ গেইট কথা কাটিকাটি বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে কিছু সময়ের মধ্যে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করদে শুরু করে। শুরু হয় দুই দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়লে ছাতক-সিলেট ও সুনামগঞ্জ সড়কের সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয়। এ সময় ভিডিও চিত্র ও ছবি তুলতে গিয়ে উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোশাহিদ আলী, ক্রীড়া সম্পদক এআর সায়েম ও সদস্য লোকমান হোসেন ছাত্রশিবির কর্তৃক হেনাস্থার শিকার হয়েছেন। ওই সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪০ জন আহত হয়েছেন বলা জানা গেছে। এর মধ্যে ছাত্রদলের-ছাত্র শিবিরের ৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্য আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে গোবিন্দগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ও করা হয়েছে।
এবিষয়ে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো.মাহবুব আহমদ বলেন, কলেজে নবীন বরণ অনুষ্টান শেষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদল মিছিলের প্রস্তুতি নিলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা বাঁধা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গালমন্দ করে। এরপরই সংঘর্ষ শুরু হলে আমাদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়।
ছাত্রশিবির সভাপতি মো.জুনায়েদ আহমেদের অভিযোগ, নবীনবরন অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিষয়টির প্রতিবাদ করলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ছাত্রদল অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের উদ্দেশ্যেই দেশীয় অস্ত্র, রড, ছুরি ও অন্যান্য অস্ত্র আগে থেকেই ক্যাম্পাসে নিয়ে রেখেছিলো। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে ৩ জন গণমাধ্যম কর্মী হেনাস্থার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ সকল নেতৃবৃন্দ। তবে এবিষয়ে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বলেছেন, ছাত্রশিবিরের কেউ এরকম ঘটনায় জড়িত থাকলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি এখন স্বভিাবিক রয়েছে। ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ ২৪ খবর