ঢাকা |
প্রকাশিত: 11:16 PM, September 5, 2026
ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক এ গ্রেড পৌরসভায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী সচিব নেই। অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ছাতক পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় নাগরিক সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের গতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে কানাইঘাট পৌরসভার সচিব শরদিন্দু রায় ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাতক পৌরসভার সচিবের দায়িত্ব অতিরিক্ত হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
নাগরিকদের অভিযোগ, বর্তমানে পৌরসভার অধিকাংশ কার্যক্রমই ধীরে ধীরে অনলাইননির্ভর হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, নথি অনুমোদনসহ নানা নাগরিক সেবা দ্রুত সম্পন্ন করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় সবসময় ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। এতে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কোনো সেবা বা নথির জন্য পৌরসভায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় তাদের একাধিকবার ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে পৌরসভায় আসা সাধারণ মানুষ এতে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমোদনের অপেক্ষায় সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
পৌরশহরের গনক্ষাই গ্রামের সেবাগ্রহীতা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের জন্য আবেদন করে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর পৌরসভার সচিব অনুমোদন না দিলে আবেদনটি পৌর প্রশাসকের কাছে যায় না। অথচ সংশ্লিষ্ট সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় তিনি পরবর্তী সপ্তাহে ছাতক পৌরসভায় আসবেন বলে জানতে পারেন। এরপর তাঁর অনুমোদনের পর পৌর প্রশাসক আবেদনটি মঞ্জুর করলে নাগরিক সনদ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, সচিব অনুমোদন দেওয়ার পর আবেদনটি তাঁর কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মোবাইল থেকেই অনুমোদন করে দেবেন। মাহফুজুর রহমানের দাবি, আগে অফলাইনে এক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিক সনদ পেয়েছেন। অথচ অনলাইন সেবা চালু হওয়ার পরও একদিন অপেক্ষা করেও সনদ পাননি। এতে জরুরি কাজও করতে পারেননি তিনি।
পৌরশহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা এবং ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি এ গ্রেড পৌরসভা। এখানে স্থায়ী সচিব না থাকায় নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় এভাবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে দীর্ঘদিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কাম্য নয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ছাতক পৌরসভায় একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায় বলেন, তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর বর্তমান কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। এর আগে তিনি কুলাউড়া পৌরসভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ছাতক পৌরসভায় সপ্তাহে কোনো কোনো সময় দুই দিন এবং কোনো কোনো সপ্তাহে তিন দিনও অফিস করেন। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। এরপরও তিনি ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেন।
শরদিন্দু রায় আরও বলেন, তিনি যেদিন ছাতক পৌরসভায় থাকেন না, সেদিন কোনো জরুরি কাজ থাকলে অফিসের কর্মচারীরা তাঁকে জানালে কানাইঘাট থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁর দাবি, নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে। দুইটি পৌরসভার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে তাঁর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি বড় ও এ গ্রেডের পৌরসভা। এ হিসাবে এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এখন পর্যন্ত পৌরসভার নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। তিনি বলেন, দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বনিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার কথা বলেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host