লাউড়েরগড় বর্ডার হার্ট চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে

প্রকাশিত: 8:21 PM, October 13, 2026

লাউড়েরগড় বর্ডার হার্ট চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে

মো আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের অর্ন্তগত লাউড়েরগড় (শাহিদাবাদ) বর্ডার হার্ট সীমান্ত দিয়ে বিজিবি-কে ম্যানেজ করে নিয়মিত সড়ক এবং নৌ পথে কোটি কোটি টাকার
ভারতীয় মদ অফিসার চয়েস,এসিব্ল্যাক,বিয়ার,ইয়াবা,হেরোইন,জিরা,চিনি,কয়লা,এলাচ-দারচিনি,কসমেটিক,শাড়ী,লেহেঙ্গা,ফুসকা ইত্যাদি। এদিকে বাংলাদেশ থেকে প্রতিরাতে রসুন,রাসায়নিক সার,কীটনাশক,মাছ,ডিম,হাঁস-মুরগি,গরু-মহিষ ইত্যাদি চোরাচালানী ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করার অভিযোগ উঠেছে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে। মাদক পাচারের ঘটনায় বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,ডিবি পুলিশ ও তাহিরপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমাসে অন্তত ডর্জন খানেক মামলা রুজু করে মালামাল সহ হাত-নাতে আদালতে প্রেরণ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভারতীয় মদ,ইয়াবা ট্যাবলেট,হেরোইন,গাজা, চামারি মদ ব্যবসায়ি ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানার ইয়াবা মামলা নং- ২৩ তারিখ ১৮/৬/২৬ ইং, গত ৯ সেপ্টেম্বর চুলাই মদ মামলা নং- ০৩ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর,
১৩ সেপ্টেম্বর অফিসার চয়েস মামলা নং-৯ গত ৬ অক্টোবর মদ মামলা নং-০২ তারিখ ৬/১০/২৬ ইং।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়,গত ৪ আগষ্ট সরকার পতনের পর ব্যাপক ভাবে রদবদল হয়েছে সুনামগঞ্জের থানা গুলোতে। নতুন করে পুলিশ প্রশাসনে এই রদবদলের কারন ছিল পুলিশ এবং সীমান্ত রক্ষী বিজিবির প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সহ ভারতীয় চোরাচালান ও অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে পুলিশ নিরলস ভাবে নতুন স্বাধীন দেশে জনগণের ভরসাস্থল হিসেবে আস্থার জায়গা করে নিবেন।
চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য জেলা পুলিশের নির্দেশে লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ বর্ডার হার্ট সীমান্ত বাজার,লাউড়েরগড় বাজার,বারেকের টিলা,বড়গুপ টিলা,ট্যাকেরঘাট,নিলাদ্রী লেক, বিশ্বম্ভরপুর চালবন চেকপোষ্ট ও লাউড়েরগড় সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধের নির্দেশনা দিলেও রক্ষা করার পরিবর্তে বিজিবি-পুলিশ যদি নিজেরাই চোরাকারবারীদের সাথে ব্যবসায় জড়িয়ে যান সেখানে কিছুই করার থাকেনা। কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট কলঙ্কিত হন সেই চিন্তা মাথায় না রেখে নিজেদের পকেট ভারী করতে মরিয়া হয়ে উঠেন অনেকেই। যার রুপ
রেখার প্রতিফলন এবার ঘটতে চলেছে তাহিরপুর থানায়? জানা যায় বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফারুক মিয়া। তিনি যোগদানের তিন দিনের মাথায় লাউড়েরগর সীমান্তে আবারও চালু হয়েছে ভারতীয় চোরাকারবারীদের রমরমা ব্যবসা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় লাউড়েরগর সীমান্তে বিজিবি চেকপোস্টে অবস্থানরত ডিউটিতে থাকা বিজিবি সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিটি চিনি, ভারতীয় মাদক, বিড়ি, কসমেটিক্সসহ চোরাইপথে আসা প্রত্যেকটি মিনিট্রাক,সিএনজি,মোটর সাইকেল চেক করে পাস দেওয়া হয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। যেখানে অবৈধ মালামাল আটক করে থানায় নেওয়ার কথা সেখানে উল্টো পুলিশ মহড়ায় নিরাপদে চোরা কারবারিদের সুযোগ করে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করার পথ করে দিচ্ছেন নৌ-পুলিশ এবং বিজিবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, সার সংকটতার কারণে ঠিকমত ধান ও সবজি উৎপাদন করতে পারছি না । কৃষকের দ্বারগুরায় সব ধরনের সার ও বীজ পৌঁছাতে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক সার ও বীজ ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখর বিষয় হলো ২০২৬ সালের সীমান্ত দুরত্ব নীতিমালা লংঘন করে সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মী দ্বারা সীমান্ত দুরত্ব ৮ কিঃমিঃ এর স্থলে দেড় দুই কিলোমিটার সীমান্তে অবস্থিত বসতঘর সংলগ্ন নাম মাত্র
গোদাম তৈরি করে ডিলারশীপ নেওয়ার জন্য বেশ তদবির শুরু করেছেন। সরকার অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের কথা চিন্তা করে ভর্তুকি দিয়ে সার কৃষকের দুরগুরায় পৌঁছে দিচ্ছেন। ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে লাউড়েরগড় সীমান্তে যদি সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে ভারতে সার পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও বিজিবির মনোনীত লোকদের দিয়ে টাকা উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায় ঐ জিরো পয়েন্টে। শুধু তাই নয় যে সকল পুলিশ রাতে ঐ সমস্ত রঙ্গ লীলার দৃশ্য দেখেন তাদেরকে ম্যানেজ করা হয় । পুলিশ যেখানে ম্যানেজ হন সেখানে কিছু সংখ্যক রাত জাগা অসৎ পাতিনেতা বাধ্য হন ম্যানেজ হতে। কি আর করা প্রশাসন যেখানে চোরাকারবারীদের ভারতীয় পণ্য ব্যবসায় সহযোগিতা করছেন সেখানে কয়েকজন সাংবাদিকও অসহায় হয়ে পুলিশের সাথে তাল মিলিয়ে চলছেন। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলায় ভারতীয় চোরাই ব্যবসা ভালই জমজমাট। বর্তমান পুলিশ সুপার ঐ সমস্ত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও ডিউটিতে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পুলিশ সুপারের চোখ ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অপরাধ কর্মকাণ্ড। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ভোর সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে ভারতীয় পণ্য চিনি,মাদক,বিড়ি ভর্তি টাক চলাচল। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া হয় চোরাকারবারীদের। পুলিশ সুপার যোগদানের পর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি সুনামের সাথে এসেছেন সুনাম অর্জন করে যাবেন। কিন্তু উনার এই প্রতিশ্রুতি বিনষ্ট করে চলেছেন রাতে ডিউটিতে থাকা থানা পুলিশের কিছু সদস্য ও বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা। পুলিশ সুপার মহোদয় গোপনে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঐ সমস্ত চোরাকারবারীদের ও জড়িত অসাধু পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুশীল সমাজের লোকেরা।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক মিয়া বলেন, মাদক এবং চোরাচালানের বিরুদ্ধে নিয়মিত আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাসেম বলেন, তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ সীমান্ত এবং বারেকের টিলায় চোরাচালান এবং মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর