আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের মারামারি

প্রকাশিত: 8:01 PM, October 14, 2026

আয়াস-রিমির জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের মারামারি

বিজয়ের কন্ঠ ডেস্কঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিতে দুইপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার এ ঘটনার জেরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক মিনিট পর আবারও বিচারক এজলাসে এসে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে থেকে আল মোহসিন তৌহিদ নামে একজন আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষের পিপিসহ অন্যান্যদের দিকে হুমকি দিয়ে তেড়ে যান। এ সময় দুইপক্ষের মাঝে হট্টগোল বাধে। এ সময় আয়াসের হয়ে কথা বলা এক আইনজীবীকে মারধর করেন কয়েকজন আইনজীবী। পরে বিচারক এজলাস ছাড়েন। পরে ৪টা ৪৪ মিনিটে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিচারক ফের এজলাসে আসেন।

সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আয়াস পাকিস্তান, জিন্নাহর কবর জিয়ারত নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। পাকিস্তান, জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য রাখা উস্কানি, দুরভিসন্ধি আছে। সেগুনবাগিচা থেকে হকার উঠিয়ে কেন গ্রাফিতি আঁকা হল, এটা নিয়ে তাদের জ্বালা। আপনারা অন্যজনের ছবিতে কালি দিতে পারেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উস্কানি দিতে তারা এমন কর্মকাণ্ড করেছে। গত সাতমাস ধরে এই সরকার, জনগণকে নিয়ে তারা গালিগালাজ করছে। এই প্রজন্মকে খারাপ করছে তারা।

এক পর্যায়ে আয়াস-রিমির আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে ওমর ফারুক বলেন, এরা সবাই জামায়াতের আইনজীবী। এ সময় আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ এর বিরোধিতা করে বলেন, পিপির বক্তব্যে আপত্তি আছে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে থাকা কয়েকজন আইনজীবী তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। তারা এসে আইনজীবী তৌহিদকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে টানাটানিতে আইনজীবী তৌহিদের শার্ট ছিঁড়ে যায়। এ অবস্থা দেখে এজলাস ছাড়েন বিচারক রিয়াদ হাসান। তখনও আদালতে হট্টগোল চলতে থাকে। কয়েক মিনিট পর প্রসিকিউটর ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এরআগে গত রোববার আয়াসের তিন দিনের ও রিমির দুই দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

গত শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির দক্ষিণ পাশের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও নষ্ট করার চেষ্টার সময় এক নারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলা করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর