ঢাকা ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদন
ড.আহমদ আল কবির। নামের অর্থের মধ্যে যেমন রয়েছে প্রশংসা ও মহত্ব, তেমনি কর্মজীবনেও তিনি এক মহান ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ তথা ভারত উপমহাদেশে নানা দিক দিয়ে সফল ও কীর্তিমান পুরুষদের তালিকায় যে ক’জনের নাম, তাদেরই একজন ড.আহমদ আল কবির। শিক্ষা ও চাকরি জীবন থেকে শুরু করে রাস্ট্র ও সমাজ জীবনের সবক্ষেত্রেই রেখে চলেছেন সফলতার ছাপ। তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান। পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং পার্টনার ও প্রধান নির্বাহী। ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও সহ-সভাপতি। ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির পরিচালক। রিসার্চ, ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি। সিলেটের আইডিয়াল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। জাতীয় বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়াও তিনি আমেরিকার জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার। তিনি একাধারে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, মিডিয়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ।
ড. আহমদ আল কবিরের জন্ম হযরত শাহজালালের পূণ্যভূমি সিলেটে। জেলাসদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ৬০ কিলোমিটার দূরে জকিগঞ্জ উপজেলার নূরপুর গ্রামে। ১৯৫২ সালের ৩০ মে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা বাবা তোফাজ্জল আলী ছিলেন একজন চিকিৎসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী ও শিক্ষানুরাগী। মাতা রহিমা খানম ছিলেন স্বাধীনচেতা মুক্ত মনের মানুষ, শিক্ষানুরাগী এবং সমাজকর্মী। ড. কবিরের পূর্বপুরুষের একথ্যাতনামা ব্যক্তির নাম ছিল নূর মোহাম্মদ। সেবা নূর মোহাম্মদের নাম অনুসারেই তার জন্মস্থানের নাম নূরপুর। ৬ ভাই ও দু’ই বোনের মধ্যে ড. আহমদ আল কবির সবার বড়। তাঁর পরিবারের সবাই সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। ড. আহমদ আল কবিরের কোন পুত্রন্তান নেই। দই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার। স্ত্রী মমতাজ শামীম ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাপিকা বড় মেয়ে তুহ্ফাত উল কবীর-এর স্বামী একজন কীর্তিমান কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। স্বামী নিয়ে বড় মেয়ে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত। আর ছোট মেয়ে মায়িশা কবির আইন বিভাগে অধ্যয়ণরত।
ঢাকায় কর্মবহুল ও ব্যস্ততর জীবন যাপনের পাশপাশি ড. আহমদ আল কবির তাঁর নিজ এলাকার জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ।
শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বের অধিকারী ড. আহমদ আল কবির তাঁর নিজ এলকা জকিগঞ্জের ইছামতি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৬২ সালে ইছামতি হাইস্কুলে ভর্তি হন। তিনিই এই স্কুলের প্রথম ছাত্র যিনি অংকে লেটার মার্কসসহ কলা বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। মাধ্যমিকে কলা বিভাগ থেকে পাশ করলেও পিতা-মাতার ইচ্ছায় তিনি সিলেট এমসি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন।
পরবর্তী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (অনার্স), এম.এ (অর্থনীতি) ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার ওপর বৃটেনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল ডেমোগ্রাফিতে এম.এস.সি এবং আমেরিকার প্যাসিফিক ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে পপুলেশন ও ডেভেলপমেন্টে (অর্থনীতিতে) পিএইচডি ডিগ্রি ও ডক্টর খেতাব অর্জন করেন।
আদর্শিক ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী ড. আহমদ আল কবির মূলত ১৯৬৯ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন । সিলেট এমসি কলেজে ভর্তি হয়ে যখন হোস্টেলে উঠেছিলেন তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা হোস্টেলে এসে তাদের ব্যানারে সাধারণ ছাত্রদের নেওয়ার চেষ্টা করতো। তিনি তখন প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে ১১ দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলেন। সঙ্গতকারণেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ত বা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।
তার রাজনীতির হাতে খড়ি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৯ সালে তখন ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন থেকে। এ সময় ড. কবির আন্দোলনের জন্য এলাকার জনগণকে সংগঠিত করেন। ১৯৭০ সালের মার্শাল-‘ল’ জারির পর পাকিস্তানি সেনারা ড. কবিরসহ প্রায় ১শ’ জনকে আসামি করে সামরিক আদালতে মামলা করেন। এই ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের সময় ১৯৭০ সালেই এ মামলার বিচার কার্য শুরু হয়। মামলায় তাঁর অনেক বন্ধু জেলে খাটেন। এরপর দেশমাতৃকার স্বাধীনতায় তিনি অংশ নেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে।মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ এলাকায় গঠিত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়কও ছিলেন ড. আহমদ আল কবির।
আহমদ আল কবির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর বাবাও ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি কর্মকর্তা (ডাক্তার) হয়েও ডাঃ তোফাজ্জল আলী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের জন্য ড. আহমদ আল কবির ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যের শিলচর জেলার লোহারবন্দ ক্যাম্পে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপটেন রাজা রাম তাঁকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেন। পরে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৪ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যোগদান করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে স্থানীয় নেতাদের ডাকে জকিগঞ্জ ফিরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব নেন কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিলুর রহমান, প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান বন্ধুবর মাসুক উদ্দিন আহমদ ও এনাম আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সিলেটের শিক্ষা উন্নয়ন আন্দোলনে অগ্রণীর ভ’দিকা রাখেন ড. আহমদ আল কবির। মুক্তিযুদ্ধের পর সিলেট ব্লুুবার্ড স্কুলে (তৎকালীন অস্থায়ী আঞ্চলিক সেনা-সদরে) গিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করেন তিনি। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশাসনে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ড. আহমদ কবির এএসপি পদে পুলিশ বিভাগে নিয়োগ পান। তবে উচ্চ শিক্ষার কারণেই তাঁর বাবা চাকরিতে যোগদান করতে দেননি। পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য আবারো লেখাপড়া শুরু করেন তিনি। সকলের সাথে সু-সম্পর্কের জন্য এলাকায় অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসীদের চাকরি ও বিভিন্ন প্রকার সহায়তা দিয়ে থাকেন তিনি।
লেখাপড়া শেষ করে ড. আহমদ আল কবির ১৯৭৭ সালে চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকায় এসে সরাসরি একটি মেসে বন্ধুদের সাথে ওঠেন। বর্তমান ওই মেসটি ক্যাপিটাল হোটেল (জোনাকি সিনেমা হলের কাছে)। ওই মেসটি ছিল সিলেট অঞ্চলের লোকদের রাজনৈতিক আড্ডাখানা।
ড. কবির মেসে থাকা অবস্থায় দেখে তাঁর বন্ধুরা বিভিন্ন চাকরি করছেন। তিনিও চাকরির জন্য চেষ্টা করলে অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক চাকরি হয়নি। এভাবে চাকরি খুঁজতে গ্রিন রোডের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালক আবেদন নিয়ে কর্নেল হাসমত আলীর কাছে যান। মৌখিত পরীক্ষাতে একটি গবেষণা প্রকল্পে তাঁর চাকরি হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইংয়ে নিয়োগ পান। খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর ভাল কাজের স্বীকৃতি পেতে থাকেন। তখনই বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা কার্যক্রমের প্রধান ড. রিচার্ড মোর তাকে ইউএনএফপিএ -এর চাকরির প্রস্তাব দেন উচ্চ বেতনে।
১৯৮০ সালের শেষের দিকে বৃটিশ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে বৃটেনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন ও ডেভেলপমেন্টের উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা পাস করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে আমেরিকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভিএসসি নামক প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তার স্ত্রী অধ্যাপিকা মমতাজ শামীমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
একই সালের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লন্ডন স্কুল অব হাইজিন ও ট্রপিকেল মেডিসিনে মেডিকেল ডেমোগ্রাফিতে এম,এস,সি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁদের লন্ডনে থাকার সময়ই তাঁদের বড় মেয়ে তুহ্ফাত উল কবীরের জন্ম হয়।
১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে আবারও তিনি এভিএসসি’র আন্তর্জাতিক কাজে যোগ দেন ড. কবির। এরপর এভিএসসি’র হয়ে পুরো এশিয়া-অঞ্চলের দায়িত্ব নেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভূটান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ অনেক দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে কাজের জন্য এভিএসসি’র বিশ্বব্যাপী মেরিটরিয়াস সার্ভিস পুরস্কার গ্রহণ করেন। যেটি আমেরিকার বাইরে কোন রাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে তাঁর এ অর্জন প্রথম। পাকিস্তানের মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার কারণেই এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার দেওয়ার সময় ড. কবিরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টরা তুলে ধরেন।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সূর্য্যরে হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক চালু এবং আমেরিকা ভিত্তিক জন স্ন্নো ইনকরপোরেটেড নামক প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এই সংস্থার (জেএসআই) প্রথমে উপ-প্রধান ও পরে পধ্রান পদে সূর্য্য হাসিকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেন ড. কবির।
এটি ছিল ইউএসএইড এর শহর অঞ্চলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কার্যক্রম। যেটি ২০০২ সালে শেষ হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটি কাজ সমাপ্ত করে দেশ থেকে চলে যায়। এই সময়ে বাংলাদেশ জেএসআই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব প্রহণ করেন তিনি।
২০০৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করার ব্যাপারে জে এস আই- ইউএসএ এবং ড. আহমদ আল কবির সিদ্ধান্ত নেন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান রিসার্চ, ট্রেনিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট (আরটিএম) এন্টারন্যাশনাল নামে আতপ্রকাশ করে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র পাঁচজন লোক নিয়ে কাজ শুরু করলে ও এখন তা একটি বড় প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
১৯৭৯ সালে ড. কবির তাঁর নিজ এলাকার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও বন্ধুদের নিয়ে সীমান্তিক নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা, বৃহত্তর সিলেটে ১৩টি উপজেলা ও ঢাকা শহরের বস্তি অঞ্চলে সীমাšিন্তকের ২০টি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনসাধারণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ১ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক, সক্ষম দম্পতি, মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় সীমান্তিক প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়নের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা বিস্তারে সীমান্তিকের অর্জন খুব সামান্য নয়। ব্র্যাক সহযোগিতায় ১৫টি অনানুষ্ঠানিক বিদ্যালয় চালু আছে, যাতে প্রতি বছরে ১ হাজার ৩’শ জন ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা লাভ করছে।
এছাড়া কালিগঞ্জে একটি উন্নতমানের বিদ্যালয় ও সিলেট শহরে আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সিলেট শহরে একটি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু রয়েছে। গত কয়েক বছর সিলেটের শ্রেষ্ঠ এনজিও হিসেবে সীমান্তিক প্রধানমন্ত্রী পদক পেয়েছে।
আরটিএম নামের প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ ছিল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা। স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম বিচার-বিশ্লেষণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ড. কবির কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাধারণ ও দুস্থ্য মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যই আরটিএম কাজ করছে। জাপান সরকারের অর্থায়নে আরটিএম সিলেটে একটি মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা-স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজে হাত দিয়েছে।
আরটিএম -এর পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন তিনি। তাঁর মায়ের প্রতিষ্ঠিত ডা. টি আলী ও রহিমা আলী ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। এর সঙ্গে কিন্ডার গার্টেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন।
এর পাশাপাশি ২ বছর মেয়াদী কমিউনিটি প্যারামেডিক ট্রেনিং কোর্স, ৪ বছর মেয়াদী মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং কোর্স, এবং ৩ বছর মেয়াদী মিডওয়াইফারী ট্রেনিং কোর্সের মাধ্যমে কর্মমূখী বাস্তব শিক্ষা চালু করেন ড. আহমদ আল কবির।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পান। নির্বাচন পরিচালনার কাজটি তিনি যথাযথভাবে সম্পন্ন করে তিনি তাঁর ব্যবস্থাপনা কাজে দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০০৯ সালে ডিসেম্বর মাসে নিয়োগ করেন ড. কবিরকে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংকের প্রায় ১২০০ কোটি টাকা পূঞ্জিভূত লোকসান ছিল। যে কারণে ব্যাংকটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।
তবে ওই অবস্থা থেকে পর্যদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন ব্যাংকে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছেন। নতুন লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের সকল ক্ষেত্রেই সংস্কার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী ঋণ (এসএমই) বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে।
নতুন শাখা খোলা হয়েছে এবং ব্যাংকটিকে সার্বিক ভাবে আধুনিকায়নের ব্যবস্থা সফলতার সাথে করা হয়েছে। বর্তমানে রূপালী ব্যাংক এখন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটি প্রত্যেক বছরই মুনাফা করছে। তারল্য সংকট নেই ব্যাংকে। বিনিয়োগ করার মত পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে।
ড. আহমদ আল কবিরের স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের যুব সমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা। এছাড়াও জনগণকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা, কর্মমূখী শিক্ষা দেয়া, মাথা পিছু আয় বাড়ানো, জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন ঘটানো। সিলেট বিভাগের সামগ্রিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করে আমূল পরিবর্তন ঘটানো। নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করতে চান এ মানুষটি।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host