পৈতৃক বাসা কুক্ষিগত করতে মাকে প্রবাসী ছেলের হয়রানি

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

পৈতৃক বাসা কুক্ষিগত করতে মাকে প্রবাসী ছেলের হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট মহানগরের চৌকিদেখিতে পৈত্রিক বাসার ভাই-বোনদের অংশসহ পুরোটা জবরদখল করতে নিজের গর্ভধারিণী মাকে হয়রানি করছেন প্রবাসী ছেলে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন মা হাজেরা খাতুন। তিনি চৌকিদেখির ১৩৬/৩ নং বাসার মৃত ওয়াহিদ আলীর স্ত্রী।
হাজেরা খাতুন লিখিত বক্তব্যে জানান- চৌকিদেখি এলাকার রংধনু ১৩৬/৩ নং বাসাটি তারা স্বামী-স্ত্রী নির্মাণ করেন। তাদের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। সবাই লন্ডন প্রবাসী। ২০২৪ সালে হেবা দলিলের মাধ্যমে ৩ তলা বাসাটি ইসলামি শরিয়া মোতাবেক ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের নামে লিখে দেন হাজেরা বেগম। তবে শর্ত রাখেন- জীবদ্দশায় ওই বাসার পূর্ণ অধিকার তাঁর। ভাড়াটে দেওয়া, ভাড়ার টাকা আদায়সহ যাবতীয় সুবিধাদি এককভাবে তিনি প্রাপ্ত হবেন। তাঁর মৃত্যুর পর দলিল কার্যকর হবে এবং যার যার ভাগের ইউনিট ও তলা বুঝে পাবেন। কিন্তু বিষয়টি হাজেরার বাকি দুই ছেলে লায়েস উদ্দিন ও ফয়েজ উদ্দিন এবং মেয়েরা মেনে নিলেও মানতে নারাজ মেঝো ছেলে ওয়েস উদ্দিন।
তিনি লোভী হয়ে একাই পুরো বাসা কুক্ষিগত করতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি ওই দলিলের উপর মামলা করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে দেশে এসে কাউকে কিছু না বলে দ্বিতীয় তলা ভাঙচুর করে সামনের দিক পুননির্মাণ করেন। এতে বাসার সৌন্দর্য্য পুরোই নষ্ট হয়ে গেছে। পরে তৃতীয় তলায় অহেতুক কিছু কাজ করিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করেন এবং সেখানের ভাড়াটে- গোলাপগঞ্জের হামিদুল হাসানকে নিজের পক্ষে টেনে তৃতীয় তলা দখল করে নেন। ওই ভাড়াটে হাজেরা খাতুনকে এ পর্যন্ত কোনো মাসের ভাড়া পরিশোধ করেনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলা শুরু করলে তাঁকে হয়রানি করতে শুরু করেন ওই ভাড়াটে।
এ বিষয়ে হাজেরার পক্ষ থেকে তাঁর বড় ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী লায়েস উদ্দিন দেশে এসে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে উপ-কমিশনার (উত্তর) ভাড়াটে হামিদুল হাসানকে ডেকে পাঠান। প্রথম বৈঠকের দিন দুপক্ষের বক্তব্য শুনে উপ-কমিশনার তাকে বাসাটি ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে বাসা ছেড়ে না দিয়ে উল্টো বৃদ্ধা হাজেরা খাতুনকে নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করে। এলাকার মাদকসেবনকারী উশৃঙ্খল কতিপয় যুবকদের প্রতিদিন বাসায় নিয়ে এসে আড্ডা বসান এবং বাসার মালিক বৃদ্ধাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এসব বিষয় পুলিশকে জানালে তারা হামিদকে একাধিকবার ডেকে পাঠালেও তিনি আর উপ-কমিশনার কার্যালয়ে উপস্থিত হননি।
সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য্য করে দুপক্ষকে ডেকে পাঠান উপ-কমিশনার। কিন্তু ওইদিন শুনানির আগেই উপ-কমিশনার কার্যালয়ের সামনে লায়েছ উদ্দিনের উপর হামলা করেন হামিদুল হাসান ও তার সহযোগিরা। এতে লায়েস গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে তিনি সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়া সম্প্রতি একদিন হাজেরা খাতুন ভাড়াটে হামিদুলকে বাসা ছাড়ার জন্য অনুরোধ করতে গেলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে বৃদ্ধাকে মারতে উদ্যত হন। এসময় সেখানে উপস্থিত হাজেরার ছোট মেয়েকও লাঞ্ছিত করেন হামিদুর রহমান ও তার স্ত্রী।
এ অবস্থায় হাজেরা খাতুন ও তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরা নিরাপত্তহীনতায় ভোগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হাজেরা খাতুন।

সর্বশেষ ২৪ খবর