সিলেটে চৌধুরী মম বনাম কাউন্সিলর সেলিম : শাস্তির আগে ‘ধর্ষক সম্পাদক’ বলার আইনগত ভিত্তি নেই

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০২০

সিলেটে চৌধুরী মম বনাম কাউন্সিলর সেলিম : শাস্তির আগে ‘ধর্ষক সম্পাদক’ বলার আইনগত ভিত্তি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিকতা সর্বোচ্চ সম্মানের পেশা। পত্রিকা তথা গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। কিন্তু হাল আমলে জাতির বিবেক খ্যাত এ জনগোষ্ঠিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে কুণ্ঠবোধ করছে না স্বার্ধান্বেষী মহল। ক্ষমতার জোরে সাংবাদিকদের নানা অভিধায়ে অবিধিত ও কলংকৃৃৃত করতেও দ্বিধাবোধ করছে না তারা। তাদের মূখে সাংবাদিকদের ‘সাংঘাতিক’ বলে বেড়ানো অনেক পুরনো কথা হলেও এখন নতুন নতুন বিশেষণে সাংবাদিকদের বিশেষিত করতে শুরু করেছে তারা। ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে চালাচ্ছে হামলা মামলা-সহ নানাবিধ হয়রানীমূলক কর্মকান্ড। বিনা তদন্তে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও তাদের হুমকি ধমকি যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িযেছে। স¤প্রতি এমন কিছু অপমানজনক ও হয়রানীমূলক ঘটনাবলি ঘটে চলেছে সিলেট নগরে।

 

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২২ নং ওয়াডের কাউন্সিলর ছালেহ আহম সেলিম ক্ষতাসীন আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগরের প্রস্তাবিত পদস্থ একজন নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং এবং একজন আইনজীবিও বটে। তার হাতে নির্যাতিত ও অপমানিত হবেন সাংবাদিকরা এমন ঘটনাবলি ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

 

কাউন্সিলর সেলিম একটি নিউজের জেরে ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। তিনি গত ৪ ডিসেম্বর সিলেটের প্রভাবশালী দৈনিক ‘একাত্তরের কথা’ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ (মম) ও একই পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাবুল-সহ সাংবাদিক-অসাংবাদিক ১৮ জনকে আসামী করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা টুকে দেন। এসএমপি’র শাহপরাণ (র.) থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ঘটনার প্রাথমিক তথ্যের যাচাই বাছাই না করেই ক্ষমতার দাপটের কাছে হার মেনে মামলাটি রুজু করে নেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর সিলেট জেলা প্রেসক্লাব’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে এ মামলা সাংবাদিক সংগঠনটির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁডিয়েছে।

 

জামিন অযোগ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ মামলায় জেলা প্রেসক্লাবের ভোটার কয়েকজন সিনিয়র ও জুনিয়র সাংবাদিক আসামী হওয়ায় তাদের পলাতক জীবনযাপন করতে হচ্ছে। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ স্বল্প পরিসরে জামিন নিতেও পারছেন না তারা। তাই নির্বিঘেœ তারা নির্বাচনী প্রচারনা ও ভোট প্রদান করতে পারবেন কি না তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

এখানেই শেষ নয়, আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম গত ৫ ডিসেম্বর তার অফিসে একটি লাইভ অনুষ্ঠান করেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার উজ্জল মেহেদী সম্পর্কে অসৌজন্যমূলক ও কুরুচিপূর্ণ নানা বক্তব্য তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে দৈনিক ‘একাত্তরের কথা’ সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদকে সরাসরি ‘ধর্ষক সম্পাদক’ বলে অভিহিত করেন সেলিম। তার এহেন লাগামহীন বক্তব্যে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

এ ব্যপারে সিসিক কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম সমর্থকদের বক্তব্য-‘সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ (মম) ‘একাত্তরের কথা’ সম্পাদক হওয়ার আগে অনেক পত্রিকার গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন সত্য। কিন্তু তার নৈতিক অবস্থা ও অবস্থান ভালো ছিল না। একজন ‘নারীখেকো’ সাংবাদিক হিসেবে রয়েছে তার অনেক দুর্নাম। তারা বলেন ২০১৪ সালে চৌধুরী মুমতাজ (মম) মানবজমিনের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ছিলেন। ওই বছরের (২০১৪ সালের) ১৯ আগস্ট নগরের শেখঘাট এলাকার একটি বাড়িতে তানিয়া ইসলাম মণি নামের এক তরুণীকে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন চৌধুরী মুমতাজ আহমদ (মম) ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমিন। ওই দিনই নারী ধর্ষণের অভিযোগে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় চৌধুরী মুমতাজ আহমদ (মম) ও তার বন্ধু আমিনের বিরুদ্ধে ২৬(৮)১৪ নং ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়। মামলায় তাদের দু’জনকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে তারা হাইকোর্টের জামিনে মুক্তি পান। তবে তদন্তকালীন ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমান পাওয়া গেলে পুলিশ তাদেরকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করে। তাই কাউন্সিলর ছলেহ আহমদ সেলিমের বক্তব্য আদৌ ভিত্তিহীন নয়।

 

অপরদিকে সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের দাবি- একজন ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার,আসামী ও চার্জশিটে অভিযুক্ত হলেও মামলার বিচারে শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে বা অন্য কাউকে ধর্ষক এবং খুনী ও ডাকাত বিশেষণে বিশেষিত করা অন্যায় ও অযৌক্তিক। তাই চৌধুরী মমকে ‘ধর্ষক সম্পাদক’ বলে গালমন্দ করে তা ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রচার করার আইনত কোন ভিত্তি নেই। একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও আইনের সেবক হয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার কারণে সর্বমহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে বলে বিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর