ঢাকা ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১
খলিলুর রহমান
মন্ত্রীর নির্দেশ ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা (টমটম) ও রিকশা চলবে না। এ আদেশ জারির চারদিন অতিবাহিত। কিন্তু সিলেট নগরে যেই সেই। পাড়া-মহল্লার সবক’টি রাস্তায় এখনও অবাধে চলছে ব্যাটারি চালিত টমটম ও রিক্সা। গভীর রাতে রাজপথে চলাচল করচে এগুলো। আর শহরের বাইরে তো আর কথাই নেই। তবে এ নিষেধাজ্ঞার ফলে লাভবান হয়েছে পুলিশ ও চাঁদাবাজরা। প্রতিটি পাহা-মহল্লার প্রবেশ দ্বারে আগে থেকেই বসানো আছে অবৈধ টমটম ও ব্যাটারি রিক্সা স্ট্যান্ড। ট্রাফিক পুলিশের সাথে যোগাযোগীমূলে স্থানীয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট এ সব স্ট্যান্ড বসিয়ে রেখেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতি টমটম থেকে সেক্রেটারি ফি নামে দৈনিক ১০০ টাকা করে আদায় করা হয় চাঁদা। আর প্রতিটি ব্যাটারি চালিত রিক্সা থেকে নেওয়া হয় দৈনিক ৫০ টাকা। সিন্ডিকেট নিয়োজিত একজন সেক্রেটারি দৈনিক হারে এ চাঁদা আদায় করে থাকে। উত্তোলিত চাঁদার টাকার একটি অংশ দেওয়া হয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট বিটে নিয়োজিত ট্রাফিক সার্জেন্টকে। কোন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও এ থেকে নিয়মিত ভাগ পেয়ে থাকেন। এভাবে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় চলছে সিন্ডিকেট ও পুলিশের প্রকাশ্য চাদাবাজি।
সরেজমিনে পাড়া মহল্লার প্রতিটি রাস্তায় শতাধিক টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা যাত্রী বহন করে থাকে। এসব রাস্তায় মহামারি করোনাকলীন স্বাস্থ্যবিধি মানন না চালকরা। চালকসহ টমটম প্রতি ৭থেকে ৮ জন করে যাত্রী বহন করেন তারা। এভাবে সিলেট নগরের শতাধিক পাড়া মহল্লার রাস্তা দিয়ে দৈনিক ১০ হাজারেরও বেশি টমটম ও ব্যাটারি চালিত চলাচল করে এবং এ সব টমটম রিক্সা থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে ১০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির অজুহাতে টমটম ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা প্রতি চাঁদার হার আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সাথে সাথে যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে যে রাস্তায় নেওয়া হতো ১০ টাকা সেখানে বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৫ টাকা করে।
সিলেট মেট্রোপলিটন সিটির যে সব রাস্তার মোড়ে টমটম স্ট্যান্ড রয়েছে এবং ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও টমটম চলাচল করছে প্রধানত এগুলো হচ্ছে- উত্তর সুরমার কোতোয়ালি-তোপখানা, শেখঘাট, লামাবাজারে, বাগবাড়ি, নরসিং টিলা,শামীমাবাদ, আখালিয়া, নয়াবাজার, তপোবন, রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল রোড, পাঠানটুলা, সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায়, জালালাবাদ, হাউজিং এস্টেট, মজুমদারী, পূর্ব পীরমহল্লা, চৌখিদেখী, লোহারপাড়া,গোয়াইপাড়া, মল্লিকা, শাহীন ঈদগাহ, বালুচর, টিলাগড়-শাপলাবাগ, শিবগঞ্জ সেনপাড়া, কলীঘাট-মাছিমপুর, দক্ষিণ সুরমার ট্যাকটিক্যাল রোড, ষ্টেশনরোড, কদমতলী,শিববাড়ি, শাহজাল ব্রিজের দক্ষিণ মোড় প্রভৃতি। ট্রাফিক পুলিশকে নিয়মিত বখরা দিয়ে এসব এলাকায় ব্যাটারি চালিত বেআইনী রিক্সা ও টমটম চলাচল করে থাকে।
এ ব্যাপারে জানতে এসএমপি’র ডিসি (ট্রাফিক) ফয়সল মামহমুদ-এর সরকারি মুঠোফোনে বুধবার বিকেল সাড়ে ৬ টার দিকে একাধিকবার কল করলে তিনি এ প্রতিবেদকের মোবাইাল ফোন রিসিভ করেন নি।
এসএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তথ্য সংগহে মাঠে রয়েছে বিজয়ের কণ্ঠ’র অনুসন্ধ্যানী টিম। অচিরেই আসছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host