ঢাকা ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২১
মো. ফারুক মিয়া
করোনার কারণে মারা যাচ্ছে প্রতিদিন অনেক মানুষ। ইতিমধ্যে সিলেটের প্রতিটি হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ, আইসোলেশন। এমতাবস্থায় সারা দেশে চলছে কঠোর লকডাউন। অনেকে বাড়ি ফিরে চলে গেছেন কাজ এবং ব্যবসা না থাকায়। তবে করোনার এই কঠিন লকডাউনের অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন অনেক রিকশা চালক।
সরজমিনে সিলেট নগরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, নগরে যারা রিকশা চালান তারা তাদের পরিবার নিয়ে সব থেকে কঠিন জীবন যাপন করছেন। সরকারের কঠোর বিধি নিষেধের কারণে অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না প্রয়োজন ছাড়া। এমতাবস্থায় রিকশা চালকদের আয় কমে যাওয়ার ফলে নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে তাদের। এমনটি জানান নগরে প্রতিদিনকার নিয়মিত কয়েকজন রিকশা চালক। লকডাউন না থাকলে পরিবার নিয়ে কোন রকম জীবন যাপন করে পরিবার নিয়ে দিন কেটে যেত। কিন্তু সরকারের এই কঠোর বিধি নিষেধের লকডাউনের কারণে পরিবার নিয়ে বিপদে আছে তারা।
পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন এমন একজন রিকশা চালক আশিক। বাড়ি কেন্দুয়া। নিজের অভাবগ্রস্ত দিনযাপনের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, আমরা হেমনে (কেমনে) হিতা (কিতা) হরতাম (করতাম)। এহন (এখন) আমরা আমরার হরিবার (পরিবার) লইয়া আছি মহাবিহদে (বিপদে)। রিকশার জমা হরচ (খরচ) দেহন লাগে। এহন লকডাউনের সময় হারাদিনে রোজগান হরি (করি) মাত্র ১০০ / ১২০ টাকা। রিকশার মালিকরে জমার টেহা (টাকা) দেম কহনতে (কোত্থেকে), আর নিজে চাউল ডাইল নেইম কহনতে। ছেলে মেয়ে বউ লইয়া আছি বিহদ, তার উপরে বাসা ভাড়া। হরোনায়তো (করোনায়) আমরা যারা গরীব আছি, আমরাই বড় বিহদে আছি।
এ রকম আরও কয়েকজন রিকশা ড্রাইভারের সাথে কথা বললে একি কথা বলেন তারা। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। সেই লকডাউন কার্যকরে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব। প্রতিদিনই নগরের বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় অভিযান। সেই অভিযানে যথেষ্ট কাজ দিয়েছে। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। সাধারণত: বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। তাছাড়া, বাইরে বের হতে গেলে স্মরণ করে মাস্ক নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার জেল-জরিমানার ভয়ে বাসা থেকেই বের হচ্ছেন না। এতে করে নগরে মানুষের উপস্থিতি খুবই নগন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন রিকশা চালকরা। নগরে বিভিন্ন অলি-গলিতে এখন ব্যাটারি চালিত রিকশা চলতে দেখা যায়। মানুষও এসব রিকশার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহী। কিন্তু প্যাডেল চালিত রিকশাগুলো সম্পূর্ণরূপে অবহেলিত। কোনো রকম উপার্জন ছাড়াই তারা অর্ধাহারে অনাহরে দিনযাপন করছেন। এটা রীতিমত তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিকশা চালকদের দাবি, দেশে প্রথম দিকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন দেওয়া হলে বিত্তবানেরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমরা কাজ না করেও ত্রাণের মালামাল নিয়ে কোনরকম দিনযাপন করতে পেরেছি। কিন্তু এবার দৃশ্যটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেউ ত্রাণ দেওয়াতো দূরের কথা। কারো কাছে হাত পেতে চাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন থেকে নিয়মিত ত্রাণ/ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকলে আমাদের এতো কষ্ট করতে হতো না। এজন্য তারা সিটি করপোরেশনসহ বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host