ছাতকে নদী ভাঙনের কবলে পাকা রাস্তা, ৫০ গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৩

ছাতকে নদী ভাঙনের কবলে পাকা রাস্তা, ৫০ গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে অসময়ে ভাঙনের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বটের নদী-তীরবর্তীর ৫০ গ্রামের মানুষ। গোবিন্দগঞ্জ ও বিনদপুর গ্রামের অংশে পাকা রাস্তা নদী ভাঙনে কবলে পড়ার কারণে ওই গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে বিকল্প রাস্তা হিসেবে মানুষজন ক্ষেতের শুনো জমিকেই বেছে নিয়েছেন। আপাতত এভাবেই চলছে আঞ্চলিক গাড়িগুলো।
জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ও বিনদপুর সড়কে সিঙ্গুয়া গ্রামের ভিতরে এক কিলোমিটার অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে রাস্তাটির পুরো অংশ নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। চারিদিকে রাস্তাটি ফেটে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ইউপি হচ্ছে, গবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও, ছৈলা আফজলাবাদ ও দোলারবাজার। তিন ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এসব গ্রামে মানুষ এ পাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছে। আঞ্চলিক বাহন হিসেবে ট্রাক্টর, সিএনজি অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে থাকে। এছাড়া কয়েক হাজার স্কুল কলেজ ছাত্র ছাত্রীরা, চাকুরীজীবি ও নানা পেশার লোকজন এ রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন।
গত সোমবার সকালে সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপির সিঙ্গুয়া থেকে গোবিন্দনগর ফজলিয়া আলীয়া মাদ্রাসার প্রায় এক কিলোমিটার পাকা রাস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবার কারণেই গোবিন্দগঞ্জ ও বিনদপুর দশঘর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এনিয়ে চরম বিপাকে পড়েন ৫০টি গ্রামের মানুষ।
এসব গ্রামগুলো হচ্ছে, কৃষ্ণনগর, হরিনগর শ্যামনগর, গোবিন্দনগর, নাখরাকা, মালিকান্দি, দশঘর, লক্ষীপুর, বিনদপুর, বড়চাল, কলাগাও, ভুগলি, বানারশি, বাগইন, দক্ষিন পাড়া, উত্তর পাড়া, ছৈলা, শাসন, আলমপুর, বাংলাবাজার, দীঘলবাক, নোয়াপাড়া, শ্রীনগর, কহল্লা, আউলিসহ ৫০টি গ্রামের দু’লক্ষাধিক মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীর আগ্রাসী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হচ্ছেন। এ সড়কের গাড়িগুলো ক্ষেত্রে জমি দিয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে জীবন ও যানমালের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। ভাঙনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এতে পাকা সড়কের সাথে সাথে ভাঙছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছ বাঁশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অসময়ে এমন ভয়ঙ্কর ভাঙনের রূপ আগে কেউ দেখেনি বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। গত কয়েক দিনের মধ্যে এ নদীর পেটে গেছে শ’ শ’ একর ফসলি জমি। হুমকিতে রয়েছে গোবিন্দনগর ফজলিয়া আলীয়া, বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা। এ পাকা সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে নদী ভাঙনের তান্ডব। এরই মধ্যে কয়েক শ’ বিঘার বেশি কৃষিজমি পাকা রাস্তাসহ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় আবদুস সাত্তার, শিক্ষক রেজাদ্দ আহমদ, সদরুল আমিন সোহান, ইসমাইল আলী, বোরহান আলী রুহেল আহমদসহ একাধিক ব্যক্তিরা এ প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন চললেও এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। দ্রুত ভাঙন রোধ করা সম্ভব না হলে অনেক ঘরবাড়ি ও নানা স্থাপনা নদীর গর্ভে চলে যাবে।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আফছর আহমেদ পাকা রাস্তা ভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি। তবে এ রাস্তাটি এলজিইডির পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। ফ্লাড ডেমেজ প্রকল্পে এ রাস্তা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নদী শাসনের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়ত্বে পড়ে। এ রাস্তাটি ধ্বসের হাত থেকে রক্ষা করার তাগিদ দেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর