ঢাকা ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
সাদেক তাপাদার
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রতিটি নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনাই তৈরি করে না, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবেÑতার দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করে। এই বাস্তবতায় নেতৃত্বের প্রশ্নটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর সেই আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনায়ক তারেক রহমান একটি উল্লেখযোগ্য নাম।
তারেক রহমানকে নিয়ে জনমনে নানা মত, বিশ্লেষণ এবং বিতর্ক থাকলেও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেক সময় একজন মানুষকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করে। আমার জীবনে তাঁর সঙ্গে দু’বার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৬ সালে ছাত্রদলের প্রতিনিধি সম্মেলনে সৌভাগ্যক্রমে তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। খুব কাছ থেকে তাঁর আচরণ, কথাবার্তা এবং ব্যক্তিত্ব পর্যবেক্ষণ করে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে, তা হলো তাঁর সরলতা।
তিনি আপাতদৃষ্টিতে একেবারেই সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্তÑএমন একজন মানুষ, যিনি বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে ভাবনা, পরিকল্পনা এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে মনে হয়েছে। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদে ছিল পরিমিতি, কথায় ছিল সংযম, আর আচরণে ছিল এক ধরনের স্বাভাবিক আন্তরিকতা। একজন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এই গুণগুলো বিরল না হলেও অত্যন্ত মূল্যবান।
প্রকৃতপক্ষে, একজন নেতার শক্তি শুধু তাঁর বক্তৃতায় নয়; বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের গভীরতা, ধৈর্য এবং অন্যকে বোঝার ক্ষমতার মধ্যেই নিহিত থাকে। আমার উপলব্ধিতে, তারেক রহমান মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন এবং ভেবেচিন্তে মত প্রকাশ করেনÑযা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চললেও সামনে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জÑগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। এই প্রেক্ষাপটে আমি বিশ্বাস করি, তিনি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে দেশ একটি আরও উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারে।
একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৌন্দর্য হলো তার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রÑযেখানে দল, মত, ধর্ম বা পরিচয়ের ভিন্নতা মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং বৈচিত্র্যই হয়ে ওঠে শক্তি। এমন একটি বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করি, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবে। নেতৃত্ব যদি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগোয়, তবে জাতির অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
অবশ্য প্রত্যাশা যত বড়, দায়িত্বও তত বড়। মানুষের আস্থা অর্জন করা যেমন কঠিন, তা ধরে রাখা আরও কঠিন। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়Ñতারেক রহমানের মধ্যে যে সাধারণতা, সংযম এবং মানুষের প্রতি মনোযোগ দেখেছি, তা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবতই আশাবাদী। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, যা হবে উন্নত, গণতান্ত্রিক এবং মানবিকÑযেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে স্থিতিশীলতা ও সম্ভাবনাময় এক দেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দূরদর্শী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আর সেই নেতৃত্বের আলোচনায় আজ তারেক রহমান একটি প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন।
নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রত্যাশা একটাইÑবাংলাদেশ এগিয়ে যাক উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথে।
শুভ কামনা দেশনায়ক তারেক রহমান।
প্রবাসী লেখক, প্যারিস, ফান্স।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host