ড্রেজার মাস্টার বুরহানের তান্ডবে হুমকির মুখে বিন্নাকুলি সড়ক

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

ড্রেজার মাস্টার বুরহানের তান্ডবে হুমকির মুখে বিন্নাকুলি সড়ক

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী সংলগ্ন বিন্নাকুলি অদ্বৈত প্রভুর আশ্রম ও ডালারপাড় এলাকায় চলছে নিয়ম বহির্ভূত পাড় কাটার মহোৎসব। ফ্যাসিস্ট নেতা চিহ্নিত চাঁদাবাজ,পরিবেশ, মাটি ও বালু মহাল ব্যবস্থাপনা একাধিক মামলার পলাতক আসামি ড্রেজার বুরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে বিন্নাকুলি,অদ্বৈত প্রভুর আশ্রম ও ডালারপাড় এলাকায় চলছে অর্ধশতাধিক সেইভ এবং মিনি ড্রেজার, প্রশাসন নিরব।
‎প্রশাসনের নিরবতার কারণেই নদীর পাড় কাটা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যাদুকাটা নদীর বালু খেকো ড্রেজার মাষ্টার বুরহান বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে বিন্নাকুলি-আনন্দবাজার সড়কটি আর রক্ষা করা যাবে না স্থানীয়দের ধারণা। যাদুকাটা অদ্বৈত মন্দিরের জায়গায় অবৈধ সেভমেশিন ও মিনি ড্রেজার বসিয়ে ডালারপাড় এলাকায় চাঁদাবাজি করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে ভাগবাটোয়ারা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বিশ্বস্থসূত্রে জানা যায় বুরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে ইজারা বিহীন যাদুকাটা নদীর ডালার পাড়ের অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা ও চলাচলের রাস্তার পাশে,পাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে পাথর ও বালু।হুমকির মুখে অদ্বৈত প্রভুর উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিন্নাকুলি-লাউড়েরগর সড়ক।
শতবছরের ঐতিহ্যবাহী একমাত্র অধৈত্ব্য মন্দিরের ২৫ কোটি টাকার উন্নয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনগুলি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না এমনটাই জানান স্থানীয়রা। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে নিরীহ দিন মজুর বারকি শ্রমিকদের ধরে জেল জরিমানা করা হলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে বরাবরের মতোই থেকে যাচ্ছে বোরহান বাহিনী ও তার লোকেরা।
প্রশাসন কেন বালু খেঁকো ও যাদুকাটা নদীর চিহ্নত চাদাঁবাজ পরিবেশসহ একাধিক মামলার আসামি বোরহান উদ্দিন ও তার সহযোগিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারছেন না সেটাই এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে? তবে কি প্রশাসনের যোগ সাজসে চলছে বোরহান বাহিনীর বালু লুন্ঠন? এমনটি ধারণা সাধারণ মানুষের মনে?
‎তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুনজিত কুমার চন্দের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন অবৈধভাবে ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে যাতে কেউ বালু উত্তোলন করতে নাপারে সেই জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মোহাম্মদ জাকির হোসেন (পিপিএম) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বালু খেকোঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা চলমান রয়েছে নতুন করে কেউ যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ ২৪ খবর