১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইতিহাস গড়লেন মুক্তাদির

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইতিহাস গড়লেন মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১১ সালের দিকে রাজনীতিতে পা রাখেন শিল্পপতি খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন সিলেট বিএনপির কান্ডারি। কিছুদিনের মধ্যেই সিলেটজুড়ে খ্যাতি পান একজন ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবে। রাজনীতির মাঠে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন তিনি পূর্ণমন্ত্রী। নির্বাচনে প্রথম জয় পেয়েই সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রীসভায় স্থান করে নিয়েছেন মুক্তাদির।
জানা যায়, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির রাজনীতিতে পা রাখার পর বেছে নেন প্রয়াত বাবা খন্দকার আবদুল মালিকের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-১ আসন। ওই আসন থেকে খন্দকার মালিক দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন। রাজনীতির মাঠে নবাগত মুক্তাদির নিয়ে খোদ বিএনপি পরিবারেই ছিল অনেক আলোচনা। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি দল ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে একজন ‘জেন্টলম্যান’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা যেমন ভিড়তে থাকেন মুক্তাদিরের পাশে, তেমনি সিলেট সদর ও নগরেও বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা। তার জ্ঞান গভীরতা ও সততা মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করে। এর সাথে যুক্ত হয় প্রয়াত বাবা খন্দকার মালিকের ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয়তা। সবমিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সিলেট বিএনপির ‘ছাউনিতে’ পরিণত হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি মুক্তাদির। আর ২০১৮ সালে ‘রাতের ভোট’খ্যাত নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পেয়েছিলেন লক্ষাধিক ভোট। সিলেটে চাউর আছে ওই নির্বাচনে মানুষ আরও একঘন্টা ভোট দিতে পারলে ‘রাতের ভোট’ ছাপিয়ে মুক্তাদিরই বিজয়ী হতেন।
রাজনৈতিক পথচলায় খন্দকার মুক্তাদির এখন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। বিগত নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি মন্ত্রীও হয়েছেন। দায়িত্ব পেয়েছেন- বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রনালয়ের।
জানা যায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর নিরপেক্ষে ও গ্রহণযোগ্য নির্বচন হিসাবে এখনো সেই ১৯৯১ সালের নির্বাচনকেই ধরা হয়।
সেই নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ীয় হয়েছিলেন খন্দকার আব্দুল মালিক। এ আসনের বর্তমান সাংসদ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পিতা ছিলেন তিনি। সেই মালিক এমপির ছেলে মন্ত্রী হয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবারের নির্বাচনে শুধু নিজেদের হারানো আসন পুনরুদ্ধারই করেননি, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় এ আসনের জনসাধারনকে আনন্দের বিশেষ একটা উপলক্ষও এনে দিয়েছেন।
বিএনপি নেতাকর্মী এবং তার ভক্ত অনুরাগীরা এখন উৎফুল্ল। নানাভাবেই তারা বিষয়টা উদযাপন করছেন। আর প্রবীনরা স্মরণ করছেন তার পিতা খন্দকার আব্দুল মালিককে। তার হাত ধরে সিলেট মহানগরীর কি কি উন্নয়ন হয়েছিল, ব্যক্তি মানুষ হিসাবে তার গ্রহণযোগ্যতা কোন পর্যায়ে ছিল ইত্যাদি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
গত নির্বাচনী প্রচারণার সময়েও বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন বিএনপি নেতাকর্মী এবং স্বয়ং খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। যেখানেই গিয়েছেন, প্রবীন ও বয়স্করা তার কাছে ছুটে এসেছেন। তার বাবা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের স্মৃতিচারণ করে তাকে দোয়া করেছেন।
তিনিও পিতার অসামান্য জনপ্রিয়তা কখনো চমকে উঠেছেন, কখনো বা মুগ্ধ হয়েছেন। সবার দোয়া ও আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন দেশের সেবায়, মানুষের সেবায়।

সর্বশেষ ২৪ খবর